আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নির্বাচনি দায়িত্বে বিস্ফোরক মামলার আসামিসহ আ.লীগের ৩ নেতা

উপজেলা প্রতিনিধি, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

নির্বাচনি দায়িত্বে বিস্ফোরক মামলার আসামিসহ আ.লীগের ৩ নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির মিছিলে ককটেল হামলা মামলার আসামিসহ ৩ আওয়ামী লীগ নেতা । বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রয়া দেখা দিয়েছে।

উপজেলায় মোট ৫৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩০৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৩১০ জন পোলিং অফিসার নির্বাচনি দায়িত্ব বন্টন করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি তাদেরকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেই তালিকায় পোলিং অফিসার হিসেবে ওই তিন আওয়ামী লীগ নেতার নাম রয়েছে। তারা হলেন, খাজাপুর একরামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অফিস সহ-কাম হিসাব আব্দুস সাত্তার, খয়েরবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আ. সালাম সরকার ও চৌরাইট মহেশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার।

আব্দুস সাত্তার ফুলবাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলা মামলার ৮ নম্বর আসামি।

আ. সালাম সরকার ৬ নং দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিস্ফোরক মামলার ১২ নম্বর আসামি। বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এছাড়া মুরাদ হোসেন সরকার ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ বলেন, বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের শাসনামলে এই শিক্ষকরা নির্বাচনি দায়িত্বে থেকে ডামি নির্বাচনে সহায়তা করে হাসিনার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিলো। সেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের পদধারী ও বিস্ফোরক মামলার আসামিদের নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গোপনে কোনো রকম যাচাই বাছাই না করেই এসব তালিকা করা হয়েছে। এর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি, সেই সাথে যাচাই বাছাই করে তালিকা থেকে ওই সব নাম প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি জানান, প্রশাসনে যারা আছেন তারা আগের ওই ব্যক্তিদেরকেই চেনেন, নতুন করে কাউকে চিনেন না। ওই হিসেবেই তারা বিগত দিনের পোলিং অফিসারদের তালিকা করেছেন। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সতর্কভাবে কাজ করা উচিৎ ছিলো। আমরা মনে করি তারা উদাসীন ছিলেন, ঠিক মত দায়িত্ব পালন করেননি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ জানান, আমরা প্রতিটি দপ্তর থেকে তালিকা সংগ্রহ করে সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে দিয়েছি। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মূলত তিনিই নিয়োগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহমেদ হাছান বলেন, তালিকায় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা মামলার আসামি থাকলে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হবে। নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এই সুযোগ রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...