হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষজন। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ।কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের।
শীতবস্ত্রের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়লেও সরকারি বা বেসরকারি পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন না অনেক হতদরিদ্র মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে শীত নিবারণের জন্য নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য না থাকায় রাস্তার পাশের পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
উপজেলার কুর্শা বাজারসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে অবস্থিত পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার, শ্রমিক ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এসব দোকানই এখন শীতবস্ত্র সংগ্রহের প্রধান আশ্রয়স্থল।
কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর ও কম্বল পাওয়া যাওয়ায় তারা পুরোনো কাপড়ের দোকানের ওপরই নির্ভর করছেন।
তারাগঞ্জ বাজারের রাস্তার পাশের একটি পুরোনো কাপড়ের দোকানে কথা হয় ভ্যান চালক আব্দুল করিম (৪৮) এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ভোরে ভ্যান নিয়ে বের হলে গা জমে যায়। নতুন জ্যাকেট কিনতে গেলে দুই-তিন হাজার টাকা লাগে, সেই টাকা আমার নাই। পুরোনোটা কম দামে পাইলেই চলে।
ইকরচালি ইউনিয়নের চরকডাংগার দিনমজুর মোফাজ্জল হোসেন বলেন, শীত অনেক বেশি পড়ছে। সকালে কাজে বাইর হইলে অনেক কষ্ট হয়। নতুন জ্যাকেট কেনার টাকা নাই, তাই পুরোনো একটা কিনতে আসছি। একই কথা কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর কবিরাজপাড়ার মতিউলের।
কৃষ্ণপুরের শাহিনুর বলেন, শীতে বউটা খুব কষ্ট পায়। দেখি দেড় দুইশ টাকার মধ্যে একটা সোয়েটার পাই নাকি।
অপরদিকে কয়েকজন দোকানিরাও জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বেড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় ভালো গাইটের শীতবস্ত্রের সরবরাহ কম। এক দোকানি বলেন, এ বছর শীত বেশি পড়ায় মানুষ বেশি আসছে। কিন্তু দামে না বনায় অনেক মানুষ খালি হাতে ফিরেও যাচ্ছে।
এদিকে শীতজনিত রোগে শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু কম্বল বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই নগণ্য। এখনো পর্যাপ্ত সরকারি বা বেসরকারি শীতবস্ত্র সহায়তা না পাওয়ায় হতদরিদ্র মানুষগুলোর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

