রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট সরকারি কলেজের আয় ব্যয়ের দাপ্তরিক নথি চুরির কথা স্বীকার করেছেন সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বারি মন্ডল।
রোববার তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি নথিপত্রগুলো চুরি করেছেন।
সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মেনহাজুল ইসলাম জানান, আমি ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড রেজিস্ট্রার ভুক্ত করার জন্য অফিসে আসি। তখনই সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল বারি স্যার এসে একটি সিলগালা আলমারি খুলে কিছু দাপ্তরিক কাগজপত্র বের করে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিক কী কাগজপত্র নিয়েছিলেন বিষয়টা আমি বুঝতে পারিনি। পরবর্তীতে আলমারি খুলে দেখা যায় আয়-ব্যয়ের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো তিনি নিয়ে গেছেন। বিষয়টি ওনাকে জানানো হলে তিনি প্রথমে সব কিছু অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে বর্তমান অধ্যক্ষকে চুরির ঘটনা জানানো হলে তিনি সাবেক অধ্যক্ষ বারি মণ্ডলকে নথীগুলো ফেরত দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু তারপরেও সাবেক অধ্যক্ষ বারি মন্ডল নথীগুলো নেয়ার কথা অস্বীকার করতেই থাকেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি রোববার স্বীকার করেন।
কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল বারি মন্ডল তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট সরকারি কলেজ থেকে দুই বছর আগে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে নেই। কলেজের নিয়ম অনুযায়ী, যে-কোনো আলমারি বা অফিস কক্ষ খোলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনুমতি প্রয়োজন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অবসরের দীর্ঘদিন পর হঠাৎ এমনভাবে অফিসে প্রবেশ করে নথি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেকেই ধারণা করছেন, তার আমলে সংগঠিত অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ লোপাট করতেই তিনি কৌশলে এই কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বারি মন্ডল আমার দেশকে জানান, নিজের প্রয়োজনে কিছু কাগজপত্র বর্তমান অধ্যক্ষকে না জানিয়ে নিয়ে এসেছি।
এ বিষয়ে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আব্দুস সবুর বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এমএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

