কাল বাদে পরশু ঈদুল আজহা। কোরবানির পশুকে ঘিরে জমে উঠেছে ঘরে ঘরে আনন্দ। তবে এবারের মৌসুমে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ফসলডুবির পর কৃষকের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে। হাতে টাকা না থাকায় অনেকেই কুরবানি দিতে পারছেন না। কৃষকদের ভাঙা মনে এসেছে এবারের ঈদুল আজহা।
শাল্লার ছায়ার হাওরের কৃষক কনক চৌধুরী এবার গোলাভরা ধান তুলতে পারেনি। আনন্দও নেই। তার ইচ্ছে ছিলো ধান বিক্রি করে বড় একটি গরু কোরবানি দেবেন। দূরের আত্মীয়দের পাঠাবেন গোশত। কিন্তু ফসলডুবির কারণে এবার তিনি ছোটো গরু কোরবানি দিচ্ছেন ।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফয়জুর রহমান বলেন, ঈদের আগে ফসলহারা কৃষকদের মানবিক সহায়তা দেয়ার কথা ছিল সরকারের। কিন্তু ঈদের আগে সহায়তা না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। হাওরের কান্না এখনও থামেনি। হাওরে ঈদের আনন্দ নেই।
একই গ্রামের কৃষক আলী নুর বলেন, বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ার পর স্কিমের জমি কেটে ফসল খলায় রেখেছি। সেই ফসলও বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। আকাশে রোদ উঠলে শুকাতে যাই পরক্ষণেই বৃষ্টি এসে পড়ে। এই রোদ এই বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছি না। ঈদের আনন্দ করব কিভাবে?
সদর উপজেলার জোয়ালভাঙা হাওরের কৃষক রাসেল মিয়া জানান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলডুবির কারণে ঈদের আনন্দ নেই হাওরের কৃষকদের। আমার সব জমিও তলিয়ে গেছে। কোরবানির দিতে পারছি না। মনটা খুব ভালো না।
মাঠিয়ান হাওরের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, হাতে নগদ টাকা নেই। ঈদের কোন অনুভূতি নেই। সব হারিয়ে আমি এখন অসহায়।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

