হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে পাকা ধান

উপজেলা প্রতিনিধি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে পাকা ধান

নিজের শ্রম আর ঘামে উৎপন্ন করা পাকা ধান চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে নির্বাক হয়ে গেছেন নবীগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের কৃষক হরলাল বৈষ্ণব। টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভাঙা পানি কেড়ে নিয়েছে তার স্বপ্ন। এমন অবস্থা হাওরের সব কৃষকদের। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে অসংখ্য কৃষকের স্বপ্নই পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষক জামাল মিয়া জানান, অধিকাংশ জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবার শ্রমিক ও নৌকার অভাবে ধান কেটে আনতে পারছি না।

বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তার মধ্যে রৌদের অভাবে ১৫% ধান নষ্ট হতে চলেছে। উপজেলার বড় ভাকৈর (পশ্চিম), বড় ভাকৈর (পুর্ব), দীঘলবাক, করগাওঁ, বাউসা, পানিউমদা ইউনিয়নসহ ছোট বড় সকল হাওরে একই অবস্থা।

নবীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে মতে, চলতি মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলার ৪০০ হেক্টর পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে । এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায় চাষ করা হয়েছে। হাওরে প্রায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি টুকু হাওরের বাইরে এলাকার চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি হাওরে দেখা যায় গত ৪/৫ দিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গুঙ্গিয়াজুড়ি, মকার হাওরসহ প্রায় সবকটি হাওরে কমপক্ষে দেড় হাজার হেক্টর বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

নবীগঞ্জের কৃষক আব্দুল কাহার চৌধুরী বলেন, ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক ঋণ করে ধান চাষ করছেন। এসব কৃষক কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে আমাদের এতো ক্ষতি হবে বুঝতে পারিনি।

মকার হাওরের কৃষক জুনেদ মিয়া বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণ করে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। আমার ভাগ্যটাই খারাপ।

নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি বলেন, নবীগঞ্জে অতিবৃষ্টির ফলে হাওরের প্রায় ৪শ হেক্টর বোরো ধানের পাকা ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...