বৈরী আবহাওয়ায় মৌলভীবাজারে ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

বৈরী আবহাওয়ায় মৌলভীবাজারে ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারে বোরো ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, এ বছর হাওরে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর ও নন হাওরে ৩৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর।

বিজ্ঞাপন

এরমধ্যে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অধিকবৃষ্টিতে ৫ হাজার ৪২ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে ২ হাজার ২৮২ হেক্টর জমির ধান নষ্ঠ হয়ে গেছে। আর আংশিক নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ১৬০ হেক্টর। এতে করে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারনে পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছে না, পানি বেশি হওয়াতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতেও ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। 

জেলা খাদ্য নিয়ত্রক মিলন কান্তি চাকমা জানান, জেলায় বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৭৪০ মেট্রিকটন। সেখান থেকে উৎপাদনের রেশিও অনুযায়ী অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধনকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৩৬ টাকা কেজি দরে ৬ হাজার ৪ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করা হবে। এরমধ্যে সদর থেকে ৯৮৩ মেট্রিকটন, শ্রীমঙ্গল থেকে ১ হাজার ১২২ মে.টন, কুলাউড়া থেকে ৮৩৫ মে.টন, বড়লেখা থেকে ৫৩৭ মে.টন, রাজনগর থেকে ১ হাজার ৪৩৬ মে.টন ও কমলগঞ্জ উপজেলা থেকে ৪৯১ টন বোরো ধান ক্রয় করবে সরকার।  যদিও কৃষকরা এই মূহুর্তে ধান দিতে পারছেননা, তবে তারা প্রস্তুত রয়েছেন ধান ক্রয় করতে।

সদর খাদ্য কর্মকর্তা চন্দ্র সেন রায় জানান, জেলা সদরের গিয়াসনগরে ধান শুকানোর একটি কারখানা রয়েছে সেখানে কৃষকরা স্বল্পমূল্যে ধান শুকিয়ে গুদামে দিতে পারে। 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সেন্টারের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আনিছুর রহমান জানান, ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে শ্রীমঙ্গলে । থেমে থেমে ৭ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। জেলার মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন