কুলাউড়ার ৪ রেলস্টেশন বন্ধ, বেহাত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ

চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

কুলাউড়ার ৪ রেলস্টেশন বন্ধ, বেহাত হচ্ছে মূল্যবান সম্পদ

দীর্ঘদিন থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চারটি রেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব স্টেশনে এখন আর ট্রেন থামে না। এতে এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাত হচ্ছে রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদ। কোনোটি আবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এসব স্টেশন একসময় যাত্রীদের পদভারে মুখর ছিল। এখন তা স্বপ্ন। এদিকে দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকার ফলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন।

সরেজমিনে স্টেশনগুলো ঘুরে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা বাজার, টিলাগাঁও, মনু ও ছকাপন রেল স্টেশন ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়েছে। এক সময় এসব রেল স্টেশনে একাধিক ট্রেনের যাত্রা বিরতি ছিল। প্রতিদিন এসব স্টেশন দিয়ে অসংখ্য যাত্রীরা দেশের নানা জায়গায় যাতায়াত করতেন। এছাড়াও স্টেশন দিয়ে ট্রেনে রাবার, চা, ধান, চাল, শাকসবজি ও কাঁচামাল বুকিং করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যেত। পরবর্তীতে হঠাৎ লোকাল, আন্তঃনগর ও মালবাহী ট্রেনের যাত্রা বিরতি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে রেল স্টেশনগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। যাত্রীদের যাতায়াত, মালামাল বুকিং এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ধীরে ধীরে এই চারটি রেল স্টেশন পোড়াবাড়ির আকার ধারণ করেছে। খসে পড়েছে দরজা, জানালা ও টিনের চালা। জংলি গাছপালায় আবৃত হয়ে গেছে সবকিছু। অভিযোগ রয়েছে রেলের কিছু জায়গা ও রেলঘরের আসবাবপত্র টিনের চালা ও লোহার এঙ্গেল বেহাত হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘরে কেউ কেউ গরু-ছাগলও পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ভাটেরা বাজার রেল স্টেশন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল করিম বলেন, চা, রাবার, কাঠের জন্য প্রসিদ্ধ ভাটেরা বাজার ইউনিয়ন। এখানে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের মতো একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা। এছাড়াও লন্ডন, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভাটেরা অঞ্চলের প্রবাসীরা বসবাস করেন। অথচ অনেক আবেদন নিবেদন করার পরও ভাটেরা বাজার রেল স্টেশনটি চালু হচ্ছে না। এ ব্যাপারে টিলাগাঁও রেল স্টেশন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাদরাসা শিক্ষক আলমগীর হোসেন, ছকাপন রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার তারেক চৌধুরী ও মনু রেল স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন জানান, রেল স্টেশনগুলোর কার্যক্রম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে প্রবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রেল স্টেশগুলো ভূতুড়ে বাড়ির অবস্থা ধারণ করেছে। স্টেশন চালুর বিষয়ে আমরা অনেক সংগ্রাম-আন্দোলন করছি। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া রেল সেকশনের সিনিয়র সাব-এসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ পারভেজ আমার দেশকে বলেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়েছে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা বাজার, টিলাগাঁও, মনু ও ছকাপন রেল স্টেশন। তবে ছকাপন রেল স্টেশন পরে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। লোকাল ট্রেনগুলো বন্ধ হওয়া এবং যাত্রী ও মালামাল কম থাকার কারণে মূলত এসব রেল স্টেশন অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে আখাউড়া-সিলেট রেল সেকশনের ডাবল লাইনের কাজ শুরু হওয়ার জোর আলোচনা চলছে। ডাবল লাইন সম্পন্ন হলে এসব স্টেশনগুলো আবার সচল হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে কুলাউড়া জংশন রেল স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ আমার দেশকে বলেন, কুলাউড়া উপজেলার এই চারটি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে অভিযোগ উঠেছে রেলের জমি ও জিনিসপত্র বেহাত হয়ে যাচ্ছে। স্টেশনগুলোর কার্যক্রম শুরু হলে এলাকাবাসীর জন্য খুব ভালো হয়। তবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন