আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পোস্টারবিহীন প্রচারে হাওরাঞ্চলে নেই উৎসবের আমেজ

উপজেলা প্রতিনিধি, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

পোস্টারবিহীন প্রচারে হাওরাঞ্চলে নেই উৎসবের আমেজ

পোস্টারবিহীন প্রচারে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নেই কোনো উৎসবের আমেজ। আগে নির্বাচন এলে গ্রাম-গঞ্জের অলিগলি, হাটবাজার থেকে শুরু করে সর্বত্র ছেয়ে যেত পোস্টারে। পরিবেশের ক্ষতি হলেও এলাকাজুড়ে একাটা উৎসব-উৎসব দৃশ্য বিরাজ করত। এবারের নির্বাচনে অন্যান্য বিষয়ে প্রচারণা থাকলেও পোস্টার সাঁটানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পোস্টার না থাকায় গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের লোকজনের কাছে প্রার্থীদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র ও প্রবীণ লোকজনের কাছে স্মার্টফোন না থকায় ডিজিটাল প্রচারণার কোনো কিছুই তারা জানতে পারছেন না। তবে পরিবেশের কিছুট স্বস্তি হলেও ভোটের মাঠে জৌলুশ কিছুটা ম্লান হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের প্রথম দিন থেকেই সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ) আসনে প্রত্যন্ত গ্রাম ও উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখো গেছে।

এলাকার সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, পোস্টারবিহীন প্রচার-প্রচারণা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে পরিবেশের। তবে উৎসবের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে এ সময় এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হতো। যেদিকে থাকাতাম, সেদিকে চোখে শুধু প্রার্থীদের পোস্টার চোখে পড়ত। আর দেয়ালে দেয়ালে কিংবা হাটাবাজারে গলির ওপর সাঁটানো পোস্টারগুলো নির্বাচনের একাট আগাম বার্ত দিত।

নির্বাচন কমিশিন (ইসি) তফসিল অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রচার-প্রচারণা চলেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। তাছাড়া লিফলেট, ব্যানার,পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশনা আরোপ করেছে ইলেকশন কমিশন। প্রচারে কোনো ধরেনর পোস্টার বা অপচনশীল দ্রব্য যেমন— পলিথিন, প্লাস্টিক বা রেকসনি ব্যবহার কার যাবে না। দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো যানবাহনে লিফলেট বা ফেস্টুন সাঁটোনো নিষিদ্ধ করেছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)।

উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওরপারের গ্রাম পন্ডুপের ভোটার কামাল উদ্দিন বলেন, নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার না থাকায় ভোটের মাঠে উৎসবের আমেজ কিছুটা ভাটা পড়েছে। অনেকের হাতে স্মার্ট ফোন না থাকায় তারা ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

টাঙ্গুয়া হাওরসংলগ্ন গ্রাম মন্দিয়াতা। গ্রামের ভোটার রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে নির্বাচন এলে পোস্টার দেখে বলতে পারতাম কে কে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। এবার তা জানতে পারছি না।

বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ শিক্ষার্থী তৃণা হাসান বলেন, নতুন পদ্ধতিতে মানুষের অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে। এ বছর নির্বাচনে পোস্টার না থকায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে না। মানুষের বাড়ি-ঘরের দেয়াল নষ্ট হচ্ছে না। রাস্তাঘাট, হাটবাজার পরিষ্কার থাকছে । সেটাই ভালো দেখাচ্ছে।

পরিবেশবিদ সাইফুল আলম চৌধুরী (সিএনআরএস) বলেন, পোস্টারবিহীন প্রচার পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের পর গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র কাগজ ও ব্যানের রেকসিনের বর্জ্যে একটা নোংরা পরিবশে তৈরি হতো, এবার আর তা হবে না। নির্বাচনি আমেজ এ বছর কিছুটা কম হলেও পরিবেশের দিক থেকে তা ঠিক আছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...