সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বোরো ফসল। হাওরজুড়ে শুধু পানি আর পানি। বুকসমান পানিতে কৃষকেরা ধান কেটে খলায় তুলছেন। কষ্টে তোলা ধান বৃষ্টিতে ভিজে খলাতেই পচন ধরেছে। চোখের সামনে ফসল ডুবে যাওয়া দেখে কৃষকেরা শুধুই কাঁদছেন।
হাওর ও নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৮ সেন্টিমিটার। সুরমা নদীতে পানি বিপদসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হাওরের কৃষকরা জানান, হাওরে এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটা যাচ্ছে না। শ্রমিক সংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে। কাটা ধান আনার রাস্তা নেই। কাদাজল মাড়িয়ে ধান পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। খলাতে ভেজা ধানে গন্ধ ধরেছে। ধানক্ষেতে দাঁড়িয়ে কৃষক এসবের চিন্তায় দিশেহারা।
‘দেখার হাওর’-এ গিয়ে দেখা যায়, জবান আলী নামে এক কৃষক ফসলের মাঠে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। তার কাছে হাওরের ফসল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু ধান কেটে মাড়াই শেষে খলাতেই রেখেছিলাম। সকালে এসে দেখি ধানে পচন ধরে গন্ধ বের হচ্ছে। আরও ৫ কেদার জমি হাওরে পানিতে ডুবে আছে। পানি না কমলে হাওরজলেই ধান ডুবে নষ্ট হয়ে যাবে। কী করে বাঁচব- আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
শনির হাওরের কৃষক জুলহাস মিয়া জানান, আমি প্রতি বছর ৭০০ থেকে ৮০০ মন ধান পাই। এবার ১০০ মনের মতো হবে- জমির ধান কেটেছি। কিন্তু ধান শুকাতে না পেরে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আরও জমির ধান কাটার বাকি রয়ে গেছে। হাওর ও নদীর পানি সমান হওয়ায় জমি ডুবে গেছে। হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না।
খরচার হাওরের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, হাওরে পানিতে ধান ডুবে গেছে। হাওরে শ্রমিক মিলছে না। যে জমিটুকু ভাসমান আছে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে কাটা যাচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এই উপজেলার সব হারভেস্টার মেশিন বেশি মজুরি পেয়ে অন্যত্র চলে গেছে। প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই।
কৃষি বিভাগ জানায়, এবার হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোর আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানান, এ পর্যন্ত হাওরের ধান কাটা হয়েছে ৫০ শতাংশ। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২০৪৭ হেক্টর। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে । কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কাটতে পরামর্শ দিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, হাওরে বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে ফসলরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। স্বাভাবিক কারণেই ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, হাওরে শ্রমিক সংকট মেটাতে গত ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালু মহাল বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ধান কর্তন শেষ না হওয়ায় ১ মে থেকে আগামী ৫ মে পর্যন্ত বালু মহাল বন্ধ রাখা হলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

