হাওরে নেই কোলাহল, নেই প্রাণচাঞ্চল্য

জসীম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ

হাওরে নেই কোলাহল, নেই প্রাণচাঞ্চল্য

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল ও পাঁচ দিনের বৃষ্টিপাতের পর দুদিন ধরে রোদের দেখা মিলেছে। ভেজা ধানে রোদে পোহাচ্ছেন কৃষকরা। রোদের দেখা মেলায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও এরইমধ্যে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই প্রতি মৌসুমের মতো হাওরে নেই কোলাহল, নেই প্রাণচাঞ্চল্য।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওরে দেখা গেছে, হাওরে দলবেধে কৃষক আগে যেভাবে ধান কাটতেন সেই দৃশ্য এখন অচেনা। কেউ নৌকা দিয়ে কেউ বুকসমান কিংবা হাঁটু সমান পানিতে ধান কাটছেন। ধান কাটতে কাটতে আধামরা হয়ে গেছেন।

শিয়ালমারা হাওরে আছিয়া বেগম বলেন, সব ধান তলিয়ে গেছে। কিছু ধান তুলে খলায় রেখেছি তাও পচে গেছে। পচা ধান থেকে কিছু ভালো ধান পাওয়ার আশায় রোদে শুকাচ্ছি। হাওরের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ক্ষতি পুষিয়ে উঠার মতো না। সরকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহায়তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

টাঙ্গুয়ার হাওরের সোহেল মিয়া বলেন, আমি ৩০ কেদার জমি চাষাবাদ করেছিলাম। ১০ কেদার জমির ধান কেটেছি। ধান শুকাতে না পেরে অর্ধেক ধান পচে গন্ধ বের হচ্ছে। বাকি জমি পানির নীচে আছে। বুক সমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছি। সব ধান কাটা যাবে না। তিনভাগের দুই ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও চেষ্টা করছি কাটার। যতটুকু ধান পাই খোরাকির জন্য রেখে দেবো। আরও দুদিন রোদ হলে ধান শুকাতে সমস্যা হবে না। তবে যে ক্ষতি হবার হয়ে গেছে, তা পুষিয়ে উঠার মত না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানান, জেলার ১৩৭ হাওরে ২লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজার মুল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। হাওরে এ পর্যন্ত ২০৪৭ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে ধান শুকাতে না পারায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা মিল মালিকদের সাথে কথা বলেছি ভেজা ধান নিয়ে গেলে ড্রায়ার মেশিনে শুকিয়ে দেবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর বিভাগ- ২) এমদাদুল হক বলেন, হাওরে বৃষ্টিপাতের পুর্ভাবাস রয়েছে। তবে আজ ২ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। বৃষ্টিপাত কম হলে বাঁধ শক্ত থাকবে। বেশি বৃষ্টিপাত হলে বাঁধ সেই চাপ সামলানো কঠিন হবে। স্বাভাবিক কারণে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকট নিরসনে বালুমহাল ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় বাড়িয়ে বালু মহাল ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন