সুনামগঞ্জ হাওরে বজ্রনিরোধক দণ্ড অকেজো থাকায় বাড়ছে বজ্রপাতের ঘটনা । এতে করে প্রাণহানির ঘটনা দিনদিন বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। এখানে প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বজ্রপাতে কৃষক, জেলে ও দিনমজুরসহ দরিদ্র শ্রেণির মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। সরকারি হিসাবমতে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এ হাওরে বজ্রপাতে ৬৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা কমাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার) স্থাপন করা হয়। তবে এসব দণ্ড স্থাপিত হয়েছে মূলত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ভূমি অফিস ও মুজিব পল্লীর মতো সরকারি স্থাপনায়। হাওরের উন্মুক্ত মাঠে, যেখানে কৃষক ও জেলেরা কাজ করেন, সেখানে এসব দণ্ড বসানো হয়নি।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার ছয় উপজেলায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। তন্মধ্যে সদর উপজেলায় চারটি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় তিনটি, জামালগঞ্জ উপজেলায় তিনটি, তাহিরপুর উপজেলায় তিনটি, শাল্লা উপজেলায় দুটি, ধর্মপাশা উপজেলায় তিনটি। সরেজমিন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ঘুরে তিনটি দণ্ডের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সবগুলো দণ্ডই অকেজো, অবহেলায় পড়ে আছে। মিটার কাজ করে না। কতটা বজ্রপাত হয় তার পরিমাপ করতে পারে না দণ্ড। এসব দণ্ড হাওরে স্থাপন না করে ব্যক্তিস্বার্থে স্থাপন করা হয়েছে। এ উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়ন গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের ছাদে একটি দণ্ড বসানো হয়েছে। সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। হাওরে গাছপালা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। এখনই সচেতন না হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়বে। বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পরীক্ষামূলক দণ্ড স্থাপনে দেখা গেছে নানা অনিয়ম।
হাওরে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন না করে বিভিন্ন অফিসে এসব স্থাপন করা হয়েছে, যা একধরনের অনিয়ম। গভীর হাওরের বজ্রনিরোধক দণ্ডের পাশাপাশি ছোট ছোট আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে সুনামগঞ্জে একটি আবহাওয়া কেন্দ্র নির্মাণের আবশ্যিকতা তুলে ধরেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, হাওরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বাজেট ও পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেখানে জনসমাগম বেশি সেখানে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। এখন এ দণ্ডগুলোর কাউন্টশূন্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

