ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন এ আদেশ প্রদান করেন।
নোটিশে বলা হয়, প্রার্থী হিসেবে আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে (উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত) সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেল নামীয় অ্যাকাউন্টে প্রচারিত ২৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ইসলামপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। ওই সভায় অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
ভিডিও ক্লিপটি বিশ্লেষণ করে কমিটি স্বপ্রণোদিত হয়ে অনুসন্ধান শুরু করে এবং বিষয়টি নির্বাচনি অভিযোগ নং–০১/২০২৬ হিসেবে রেজিস্ট্রিভুক্ত করা হয়। কমিটির মতে, এ ধরনের গণসংযোগ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ৪ ও ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, আচরণবিধির ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে কোনো প্রার্থী নিজে বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারেন না। ফলে অভিযুক্ত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম এবং ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সোহেলকে আগামী ২৫ জানুয়ারি উপস্থিত হয়ে কেন প্রার্থিতা বাতিলসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ৭ নম্বর ওয়ার্ড (মধ্য গণেশপুর গ্রাম) ইউপি সদস্য সাজ্জাদুর রহমানকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশের অনুলিপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ; ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ছাতক থানা এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বর্তমান ঠিকানায় আদেশ জারি করে জারিকৃত কপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির কার্যালয়ে দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইমরান হোসেন। অন্যথায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

