কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে। এ জন্য চলতি অক্টোবরের ১৫ তারিখের মধ্যে তা দাখিল করতে হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক: মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন-সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যাট সিস্টেমে জুলাই ও আগস্ট মাসের রিটার্ন দাখিল করেনি।
এ অবস্থায় যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্টের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জরিমানা ছাড়াই তা দাখিল করতে পারবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেপ্টেম্বরের ভ্যাট রিটার্নও একই সময়ের মধ্যে দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার ঝামেলা থেকে ব্যবসায়ীদের রেহাই দিতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছিল সরকার। এ জন্য ভ্যাট আইনে সংশোধনও আনা হয়। কিন্তু ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে সরকার বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির কারণে সে চাপ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আগের মতো মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার রীতিতে ফিরেছে সরকার। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভ্যাট রিটার্ন-সংক্রান্ত ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়।
তবে শুধু রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার কারণেই নয়, আরও বেশ কিছু কারণে ভ্যাট আদায়ে আগের অবস্থানে ফিরেছে বলে এনবিআর সূত্র জানায়। এর মধ্যে রয়েছে—ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত জটিলতা, ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ হ্রাস, মনিটরিং ও অডিটের সীমাবদ্ধতা, সুদ হিসাবসহ অন্যান্য বিষয়ে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

