আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জাল জিও জারি

কর পরিদর্শক রুমা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

কর পরিদর্শক রুমা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসর

স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া সরকারি আদেশ (জিও) জারির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার চেষ্টার ঘটনায় কর পরিদর্শক রুমা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিএম আবুল কালাম কায়কোবাদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে গত ৭ জানুয়ারি অবসরে পাঠানো হয়।

রোববার এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রুমা পারভীন কর অঞ্চল-৫-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-৪-এর যুগ্ম কমিশনারের কার্যালয়ে (সাবেক আপিলাত রেঞ্জ-৩, কর আপিল অঞ্চল-২, ঢাকা) কর্মরত ছিলেন।

স্বাক্ষর জালিয়াতি ও জাল পাসপোর্ট দাখিলের বিষয়টি ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগটি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুমা পারভীন এনবিআর দ্বিতীয় সচিব জসিম উদ্দিন (কর প্রশাসন-২) শাখার স্মারক নম্বর ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে জিও জারি করে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনে ভিসার জন্য আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন জিওর বিষয়ে সত্যতা জানতে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট শাখায় মেইল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই করে দেখা যায়, জারি করা জিওটি ভুয়া এবং কর্মকর্তার স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই।

এ ঘটনায় রুমা পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। ওই মামলার অভিযোগ বিবরণীর বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আবেদন করায় ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই ঘটনা তদন্তে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

এতে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন, দ্বিতীয় সচিব জসিম উদ্দিন (কর প্রশাসন-২) এর বক্তব্য এবং দিল্লির অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের ই-মেইল পরীক্ষা করে রুমা পারভীন স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জিও জারি এবং জাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

এছাড়া তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে বলে থানায় একটি জিডি দাখিল করেন। অথচ তার পাসপোর্ট দিল্লিতে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনে জমা ছিল। তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত এসব অভিযোগের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু এ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে সরকারী কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে তারা এতে একমত পোষণ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন