জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কারণে দেশে মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি)। এ কারণে এখনই নীতি সুদহার পরিবর্তন না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। ফলে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এমপিসির ১৪তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে গত জুলাইয়ে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। ছয় বছর পর সেটিই ছিল নীতি সুদহার কমানোর প্রথম সিদ্ধান্ত। নতুন হার গত ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়।
এদিকে দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকও ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি
পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরির কয়েকটি ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে কমিটি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো অস্থির। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কমিটি।
এ পরিস্থিতিতে বর্তমান নীতি সুদহারে এখনই কোনো পরিবর্তন না এনে অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাতের প্রভাব পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমপিসি। বিশেষ করে এসব অভিঘাত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) মূল্যস্ফীতির ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফিরদৌসী নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুদ্রানীতি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ইমাম আবু সায়েদ। এছাড়া এমপিসির সদস্যসচিব ও মুদ্রানীতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

