যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক অনিশ্চয়তায় রপ্তানি কমেছে আগস্টে

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক অনিশ্চয়তায় রপ্তানি কমেছে আগস্টে

জুলাই কিছুটা উত্থান দেখা দিলেও আগস্টে এসে রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক—ব্যবসায় অনিশ্চয়তাও আরেকটি বড় কারণ ছিল রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত মাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম দুই মাস শেষে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে। দুই মাসের এ আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি।

তবে এই সামগ্রিক ইতিবাচক আয় সত্ত্বেও, ২০২৫ সালের আগস্টে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। আগস্টে রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক রপ্তানিকারক যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক বাড়ানোর আশঙ্কায় জুলাইয়ে অর্ডার বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই অতিরিক্ত চালানের কারণে জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ে ২৫ শতাংশ বা তারও বেশি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে, আগস্টে ধারণাগত রপ্তানির আচরণ কিছুটা শিথিল হয়ে যায়, যা আয়ের হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-ব্যবসায় অনিশ্চয়তাও আরেকটি বড় কারণ ছিল রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আমদানিতে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করে, পরে তা আগস্টে ২০ শতাংশে নামানো হয়। এই উল্লেখযোগ্য শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি অনেক আমেরিকান ব্যবসায়ীদের অর্ডার স্থগিত বা বাতিল করতে বাধ্য করেছে। যেমন- ওয়ালমার্টের মিলে অনেকে অর্ডার আটকে দিয়েছে উচ্চ শুল্কের আশঙ্কায়। ফলশ্রুতিতে, আগস্ট মাসে রপ্তানির ধারায় প্রভাব পড়ে।

রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ইপিবি জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম মাসগুলোতে রপ্তানি কর্মক্ষমতা স্থিতিস্থাপকতার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে আগস্টের মন্দা বিশ্বব্যাপী চাহিদার ওঠানামা এবং বাজারের গতিশীলতার ক্রমবর্ধমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এসেছে।

এ দুই মাসে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাকের প্রবৃদ্ধি এ সময় দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দুই মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় ৭ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিট খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ১১ শতাংশ, রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। ওভেনের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ, রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের।

শুধু আগস্ট মাসে পোশাকের রপ্তানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময় রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি কমেছে নিট খাতে। এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। ওভেনের রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আয় এসেছে ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

কাস্টমস ও পোর্টে বিলম্ব, এনবিআরের ধর্মঘটও আরেকটি বড় কারণ। মে-জুন ২০২৫-এ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তারা বড় ধরনের ধর্মঘট চালায়, যা চট্টগ্রাম বন্দরসহ সব বন্দরে কাস্টমস পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। যদিও ধর্মঘট জুনের শেষেই উঠে গেলেও, সেই বিলম্বের প্রভাব আগস্ট মাসে রপ্তানিতে প্রতিফলিত হতে পারে।

যন্ত্রপাতিতে ভারতীয় ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের কারণেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা। ভারত বাংলাদেশ রপ্তানির জন্য তার ভূ-সীমান্তে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা তুলে নিয়েছে, যে সুবিধার বদৌলতে বাংলাদেশকে ভারতীয় বন্দরের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠাতে সুবিধা হতো। ফলে লজিস্টিক ব্যয় বেড়ে যায় ও রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক ব্যালাই বেড়ে যায়, যা রপ্তানি আয়কে প্রভাবিত করে।

বিভিন্ন বাজারে চাহিদা বা বিশ্ব অর্থনীতির ঝোঁক। সাধারণভাবে, গ্লোবাল চাহিদার ওঠানামা এবং বাজারে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী চাহিদার ওঠানামা এবং ক্রমবর্ধমান বাজার গতিশীলতা আগস্টে আয় হ্রাসের পেছনে বড় কারণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন