আইএমএফের বিবৃতি

নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলবে

নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলবে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আগামী কয়েক মাস আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্ভাব্য ঋণের আকার, কর্মসূচির পরিধি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার অঙ্গীকারই হবে আলোচনার মূল বিষয়। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় আইএমএফের একটি মিশন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নামতে পারে বলে মনে করছে মিশন। রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যম মেয়াদে তা ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে। তবে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে মধ্যম মেয়াদে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হবে।

বিজ্ঞাপন

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের কর্মকর্তা ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সরকারের অনুরোধে নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা।

বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আমাদের গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহমূলক এই সফরের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। নতুন সম্ভাব্য কর্মসূচির পরিধি, ঋণের আকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে আগামী কয়েক মাস আলোচনা চলবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরো তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ ও ভর্তুকি ব্যয় বেড়েছে। এতে সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রবাসী আয় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের চাপ এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।

আইএমএফের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ভর্তুকিব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরো শক্তিশালী করতে হবে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময়হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিনিময়হার আরো নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

ইভো ক্রজনার বলেন, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় পরিচালিত হওয়া উচিত। এ খাতে সুশৃঙ্খল সংস্কার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়টি নিশ্চিত করবে এবং বিনিয়োগে সহায়তা করবে।

চলতি অর্থবছরের জন্য সরকার সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সমাপনী বৈঠক করে। বৈঠকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদিত আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি কিস্তি ছাড়ের পর উভয়পক্ষের সম্মতিতে কর্মসূচিটি স্থগিত করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন