ওসিসহ আহত ২

পাবনায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর নিষিদ্ধ আ.লীগের হামলা

সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর নিষিদ্ধ আ.লীগের হামলা
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলার মথুরাপুর এলাকার দোপপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ। তারা বর্তমানে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি বিশেষ ম্যাচ থাকায় ভোর পর্যন্ত মথুরাপুর এলাকায় ফুটবল উন্মাদনা ও আমেজ বিরাজ করছিল। পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল যে, এই সুযোগটি ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে মিছিল বা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দুটি গাড়িতে পুলিশের একটি সাধারণ টহল দল মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় গেলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ওই দলের শতাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আরো কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্র-লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ১০-১৫ জন পুলিশ সদস্যের একটি টহল দল দুটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখে পুলিশ এগিয়ে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরো কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়।

তবে পুলিশের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব। তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের কারণে আমি নিজেই এলাকায় যেতে পারি না, সেখানে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর স্থানীয় যুবকরা সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের গাড়িতে আঘাত লাগে এবং দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলা চালিয়ে ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন