আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের হাতে সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দিল ইউনিলিভার

আমার দেশ অনলাইন

চট্টগ্রামে ১,৬৭৩ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের হাতে সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দিল ইউনিলিভার

চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই করতে নতুন উদ্যোগ জোরদার করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড। নিরাপত্তা সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা ও কমিউনিটি–ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মাঠপর্যায়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই উদ্যোগ জোরদার করতে নিরাপত্তা সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ’-এর আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১,৬৭৩ জন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রাহকের মাঝে সুরক্ষা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। তাদের দেওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সেফটি ভেস্ট, বুট, রাবার গ্লাভস, হেলমেট, ফেস মাস্ক ও লোহার হুক। এসব সরঞ্জাম কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এবং বিপজ্জনক বর্জ্যের সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে।

এছাড়া স্থানীয় স্ক্র্যাপ শপ বা ভাঙারিওয়ালাদের জন্য ১৭০টি ফার্স্ট এইড বক্স সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। একই অনুষ্ঠানে স্কুল ও মাদ্রাসায় উৎসভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

এর আগে এই উদ্যোগের আওতায় ৩,৭০০ জন বর্জ্যকর্মীকে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয় এবং ৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডি-বিন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০,০০০ টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্যকর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিমা সুবিধা ও আর্থিক সহায়তাও চালু রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে দেখা গেছে, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংক্রমণের হার কমার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কাঠামোবদ্ধ প্রণোদনার কারণে আয় বৃদ্ধি, সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নের মতো সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর কণিকা আক্তার বলেন, “ইউনিলিভার বাংলাদেশে আমরা মনে করি, পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হয়। এই ভাবনা থেকেই ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় আমাদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে কাজের অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে বর্জ্য সংগ্রাহকরা এখনও নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। তাই তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের পাশাপাশি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

দেশব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক ইতিবাচক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...