আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারে চালু করা হবে ডেরিভেটিভস মার্কেট। প্রাথমিক পর্যায়ে 'ইনডেক্স ফিউচার' দিয়ে ডেরিভেটিভস লেনদেন শুরু হবে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দাখিলকৃত একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা অনুমোদনের মাধ্যমে ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর এ সময়সীমা চূড়ান্ত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে কমিশন সভায় পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালার খসড়া অনুমোদন, ‘জেড ক্যাটাগরির ’ শেয়ার হস্তান্তরে শর্ত শিথিলকরণ, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণে জটিলতা নিরসনের বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এসব সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আগামী দিনে দেশের পুঁজিবাজারে গতিশীলতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ইনডেক্স ফিউচার চালুর ফলে বিনিয়োগকারীরা পুরো ইনডেক্সের উত্থান-পতনের ওপর ভিত্তি করে হেজিং করার সুযোগ পাবেন। এটি নিম্নমুখী বাজারে পোর্টফোলিও রক্ষায় একটি কার্যকর সেফটি নেট বা নিরাপত্তা কবজ হিসেবে কাজ করবে। ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে আধুনিক বিনিয়োগ সরঞ্জামের সংযোজন ও বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত করবে।
ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া অনুমোদন: বিএসইসির কমিশন সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২৬) এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই নতুন বিধিমালার অধীনে যোগ্য কোম্পানিগুলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন মোট শেয়ারের ১০% থেকে ২০% শেয়ার অফলোড করার শর্তারোপ করা হয়েছে। নতুন এই বিধিমালার আওতায় নিম্নলিখিত ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে:
সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি যার পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০% সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান। বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি। বিটিআরসি অনুমোদিত এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনি টেলিকম, আইসিটি, অবকাঠামো সেবা প্রদানকারী অথবা উৎপাদনকারী কোম্পানি। তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি যারা কমপক্ষে ৩ বছর ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদের অধিকারী কোম্পানি।
কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি।
বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণ: বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রেরণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে কমিশন সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হতে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়েডেন্স (ডিটিএ) সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই ঘোষিত লভ্যাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে প্রেরণ করতে হবে। পরবর্তীতে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণের ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনে বিলম্ব সংক্রান্ত অভিযোগ নিরসনে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কমিশন।
জেড-ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল: ‘জেড-ক্যাটাগরি’ ভুক্ত কোম্পানির স্পন্সর বা পরিচালকদের শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ দুটি পরিস্থিতিতে কমিশনের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা বিলোপ করা হয়েছে। এখন থেকে ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত এবং মূল শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে শেয়ার ট্রান্সমিশনের জন্য কমিশনের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে না। স্টক এক্সচেঞ্জগুলো লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী সরাসরি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

