২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। পার্বত্য অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় হবে উন্নয়ন প্রকল্পে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। গত অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারের বাড়তি মনোযোগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় হবে উন্নয়ন প্রকল্পে। মোট বরাদ্দের মধ্যে ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে উন্নয়ন খাতের জন্য, যা এ জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এছাড়াও প্রস্তাবিত বাজেটে ৬৫৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আবর্তক ব্যয় এবং ৭৯৮ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূলধন ব্যয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
যেসব খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাহাড়ের কৃষি, নিরাপদ পানি সরবরাহ, বিদ্যুতায়ন এবং পর্যটন-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে-
যোগাযোগ ও অবকাঠামো: দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে উন্নয়ন বরাদ্দের বড় অংশ ব্যয় করা হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া অগ্রাধিকার পাবে।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি এবং নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ স্কিম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পার্বত্য তিন জেলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় মানুষের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কৃষি ও বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সরকার বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দের এ বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরবেন।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট বরাদ্দের বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৯৬৫ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, জনসেবামূলক অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ক্লাস বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রাম আদালতের ক্যাম্পেইন করলেন ইউএনও