আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের মেয়াদ আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, অবরোধের মেয়াদ বাড়ানোর খবরে গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ‘ব্রেন্ট’ তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অবরোধ দীর্ঘ করার প্রস্তুতি নিতে তার সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পথ বেছে নেবেন ট্রাম্প। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তারপরও উভয়পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করতে চাওয়ায় সংঘাতটি অচলাবস্থায় রয়েছে।

জুন মাসের জন্য ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৩৩ ডলার বা ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। টানা আটদিন ধরে দাম বেড়ে এটি গত ৩১ মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। জুনের এই চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। তবে আরো সক্রিয় জুলাইয়ের চুক্তির মূল্য ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ১০৭ দশমিক ৪৩ ডলারে রয়েছে।

জুন মাসের জন্য মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৫৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৩ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। গত আট দিনের মধ্যে সাতদিনই এ চুক্তির দাম বেড়েছে।

হাইটং ফিউচারসের বিশ্লেষক ইয়াং আন বলেন, তেলের দামের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির মূল কারণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ। ট্রাম্প যদি এ অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নেন, তবে সরবরাহ সংকট আরো প্রকট হবে এবং তেলের দাম ক্রমাগত বাড়তেই থাকবে।

এদিকে, ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকস্মিক বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাবগুলোও খতিয়ে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে বিশ্লেষকরা এ পদক্ষেপের ফলে বাজারে স্বল্পমেয়াদি বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন।

এএনজেড রিসার্চের একটি নোটে বলা হয়েছে, ওপেক প্লাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া সংস্থাটির দুর্বল সংহতিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। কিন্তু এর স্বল্পমেয়াদি প্রভাব সীমিত। পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের কোটাসংক্রান্ত উত্তেজনার প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমানে তেলের দাম প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের চেয়ে ভূরাজনীতি, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন