একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে ১০ থেকে ১২টি সংস্থা থেকে সনদ নিতে হয়। আর এসব সনদ নিতে একদিকে নানা ধরনের হয়রানি, অপরদিকে দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়তে হয়। এছাড়া এসব সনদ নবায়নের সময়ও জটিলতা ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
সনদ নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরে রেস্তোরাঁ খাতের জন্য একটি সমন্বিত ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানিয়েছেন, এ খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, এটি চালু হলে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী হবে।
আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এ খাতের বিরাজমান সমস্যা সমাধানে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে। এরমধ্যে রয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-আগামী বাজেটে ভ্যাট ও ট্যাক্সের মাত্রা সহনীয় রাখা, গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু, বিভিন্ন অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ, এ খাতে করপোরেট আগ্রাসন বন্ধ, এ খাতকে শিল্প ঘোষণার বাস্তবায়ন; ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স চালু, ট্রেড ইউনিয়নের নামে মালিকদের জিম্মি ও হয়রানি বন্ধ, গরুর মাংস আমদানির অনুমতি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় রেস্তোরাঁ সেক্টরে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ খাত করোনার অভিঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতেও। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত ও কার্যক্রম পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫% থেকে ৫%-এ নামানো হলেও ১০% সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ অন্যান্য করের চাপে ব্যবসায়ীরা এখনও হিমশিম খাচ্ছেন উল্লেখ করে ইমরান হাসান আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যান্টিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫% করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, এ দেশে ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অনিবন্ধিত, অনেক ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও ভ্যাট-ট্যাক্স না মেনে কম দামে খাবার বিক্রি করছে, যা জনস্বাস্থ্য ও রেস্তোরাঁ খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই অনিবন্ধিত ও নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অনতিবিলম্বে সবাইকে ভ্যাট-ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, ১ম যুগ্ম মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলাম এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বিপু প্রমুখ।
এলআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

