রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো খেলাপি ঋণ। গত বছর এ খাতের সবগুলো ব্যাংকই খেলাপি ঋণ কমাতে জোরালো উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম অগ্রণী ব্যাংক। গত বছরে ব্যাংকটি প্রায় পাঁচ শতাংশ খেলাপি ঋণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
এমডি হিসেবে যোগদানের পর খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সুফলও পাওয়া গেছে। তবে আরো খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারলেই ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা আরো ভালো হবে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত ছিল ৯৯ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। গত বছর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৬৪ কোটি টাকায়। এক বছরে আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। একই সময়ে ঋণ এক হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকায়।
অগ্রণী ব্যাংকের ইতিহাসে গত বছর সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা অর্জিত হয়েছে। গত বছর ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে দুই হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৯৯১ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪ সালে পরিচালন মুনাফা ছিল এক হাজার ৫১১ কোটি টাকা। মূলত খেলাপি ঋণ থেকে আদায় বৃদ্ধির কারণেই পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।
গত বছর খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ১০ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছিল এক হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ আদায় বেড়েছে ৮ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ২ কোটি টাকা বা ৪০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত বছর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৫২ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ কমেছে তিন হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বা চার দশমিক ৯৭ শতাংশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

