একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা পেল ৪ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা পেল ৪ হাজার কোটি টাকা

দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ আমানতকারীকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচ্য পাঁচটি ব্যাংক হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। আর বাকি চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় জামানত ছাড়াই ব্যাংকগুলো থেকে ব্যাপক লুটপাটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়। এতে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এ পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার আমানতকারীদের দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে আমানতকারীদের ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম দফায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ তহবিল থেকে ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহককে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল পর্যায়ে আনা গিয়েছিল। এর মধ্যে নতুন ব্যাংকে আমানতকারীরা অর্থও জমা করছিলেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের ব্যাংক রেজুলেশন আইন সংশোধন করে একটি ধারা যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে আগের মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে নতুন করে ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের টাকা তোলার চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন ব্যাংকটিতেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বার্তা না পাওয়ায় সংকট আরো গভীর হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিত।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...