ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র থেকেও সরকারের ঋণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট দুই হাজার ৪৬১ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক দুই হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ সুদসহ বিভিন্ন কারণে এক সময় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হতো। সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমাতে তখন কয়েক দফায় সুদহার কমানো হয়। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ অনেক বাড়লেও সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানো হয়। ফলে গত তিন অর্থবছর ধরে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমছে। অন্যদিকে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিল ও বন্ডের সুদহার কমতির দিকে। এ কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আবার বাড়ছে।
সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ সরকারের ঋণ হিসেবে গণ্য হয় এবং তা বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যবহার করা হয়। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। তবে ওই অর্থবছরে বিক্রির তুলনায় ভাঙানো বেশি হয়েছিল। সঞ্চয়পত্রের মোট বিক্রি থেকে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে পরিশোধ এবং মেয়াদের আগেই ভাঙানো অংশ বাদ দিয়ে নিট বিক্রির হিসাব করা হয়।
চলতি অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সরকার ব্যাংকগুলো থেকে ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬১৯ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকার নিট ঋণ নিয়েছিল আট হাজার ৩১২ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার নেয় ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ছয় হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়ে ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা কমে যায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ছিল তিন হাজার ২৯৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১৯ হাজার ৯১৬ কোটি টাকার ঋণ নেয় আর ২০২০-২১ অর্থবছরে নেয় ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।
এক সময় একই নামে বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ ছিল। তবে ২০১৯ সালে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পর সে সুযোগ সীমিত হয়। একই সময়ে এক লাখ টাকার বেশি অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে সুদহার নির্ধারণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতি ছয় মাস পরপর সুদহার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে এ পদ্ধতিতে সুদহার ৪৭ থেকে ৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়। এছাড়া এখন সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি ও কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সুদহার প্রযোজ্য।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এগুলো হলো—পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তি ছাড়াও প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


নবনির্বাচিত এমপিদের এবার শপথ পড়াবেন সিইসি