‘আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনপর্ব দেখতে পাচ্ছি’

‘আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনপর্ব দেখতে পাচ্ছি’
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ওয়াশিংটনের ক্ষয়িষ্ণু প্রভাবকে আরো দুর্বল করে তুলছে। এমনটাই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সিসকোর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক স্টিফেন জুনস।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অবৈধ যুদ্ধ শুরু করার জন্য কুখ্যাতি অর্জন করছে, যার ‘ভয়াবহ মানবিক পরিণতি’ মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।’

বিজ্ঞাপন

তার মতে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও এখন বুঝতে পারছে যে, ওয়াশিংটন তাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা অনেক সময় ‘ভয়াবহভাবে উল্টো ফল’ বয়ে আনতে পারে। এ কারণে তারা বিকল্প জোট ও অংশীদারত্বের দিকে ঝুঁকছে।

জুনস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও এখন ভাবতে হচ্ছে—ওয়াশিংটনের ওপর আমাদের আসলেই কতটা নির্ভর করা উচিত, যখন এ অঞ্চলে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের এমন নজির রয়েছে?’

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় সাম্প্রতিক অতীতের অন্যান্য তথাকথিত চিরস্থায়ী যুদ্ধগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যে বিরোধিতা বাড়ছে, সেদিকেও ইঙ্গিত করেন এই অধ্যাপক।

তিনি বলেন, এসব যুদ্ধ দেশের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ খাত—স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শিক্ষা ও গণপরিবহনের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নিচ্ছে।

জুনসের ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মানুষও লড়াই করছে। অথচ প্রতি বছর আমাদের ঐচ্ছিক সরকারি বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি সামরিক খাতে ব্যয় হচ্ছে, যা একেবারেই অযৌক্তিক।’

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় ধরনের চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তার মতে, ‘আমরা সত্যিই মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনপর্ব দেখতে পাচ্ছি—অন্তত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে মাত্রায় দেশটির বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তৃত ছিল, তার অবসান ঘটছে।’

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন