খাল থেকে ‘কুমির’ নয়, আসে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার

খাল থেকে ‘কুমির’ নয়, আসে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার

‘খাল কেটে কুমির আনা’—বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত এই প্রবাদটির অর্থ বিপদ ডেকে আনা। অবশ্য খাল কাটলেই যে বিপদ আসে, বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় খাল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয়ের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে বড় অবদান রাখে। তার বড় উদাহরণ হলো—পানামা ও সুয়েজ খাল।

এই দুটি কৃত্রিম খাল ছাড়াও জার্মানির কিয়েল খাল ও রাইন-মেইন-দানিয়ুব খাল, চীনের গ্র্যান্ড ক্যানেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শিপ চ্যানেল সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখে চলেছে। এর মধ্যে পানামা ও সুয়েজ খাল আন্তর্জাতিক মহাসাগরীয় রুটের হওয়ায় এগুলো বছরে শত শত কোটি ডলার টোল ও অন্যান্য সেবা থেকে আয় করে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটি অংশ নির্ভর করে সমুদ্রপথের উপর। এক মহাসাগর থেকে আরেক মহাসাগরে কিংবা এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পণ্য পরিবহনে কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ কমিয়ে দেয় পানামা ও সুয়েজ খাল। ফলে জাহাজের জ্বালানি খরচ, সময় ও পরিবহন ব্যয় কমে। আর সেই সুবিধার বিনিময়ে খাল ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে নেওয়া হয় এই বিপুল অঙ্কের অর্থ। এ কারণেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাল দুটি শুধু যোগাযোগের পথ নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য বিশাল রাজস্বের উৎসও।

পানামার বার্ষিক আয় ৫.৭ বিলিয়ন ডলার

পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম জলপথ পানামা খাল খননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৮৮১ সালের ১ জানুয়ারি। ১৯১৪ সালের ১৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার মধ্য দিয়ে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এই খালটি। এটি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের মধ্যে কিংবা এশিয়া ও আটলান্টিকমুখী বাণিজ্যিক জাহাজকে দক্ষিণ আমেরিকার কেপ হর্ন ঘুরে যেতে হতো। এতে যাত্রাপথ হাজার হাজার কিলোমিটার বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি পণ্য মূল্যও অনেক বেশি হতো। এই সংক্ষিপ্ত পথের সুবিধাই পানামাকে এনে দিয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি।

১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর টরিজোস-কার্টার চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পানামার হাতে আসে। এরপর থেকে খালটি পরিচালনা করছে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা পানামা চ্যানেল অথরিটি (এসিপি)। খালটি থেকে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক সুবিধা পায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চিলি।

এসিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে (১ অক্টোবর ২০২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) খালটি দিয়ে মোট ১৩ হাজার ৪০৪টি জাহাজে ৪৮৯.১ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন হয়েছে এবং রাজস্ব এসেছে প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২৪ অর্থবছরে (১ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) মোট ১১ হাজার ২৪০টি জাহাজে ৪২৩ মিলিয়ন টন কার্গো পরিবহন হয়েছে এবং রাজস্ব এসেছে প্রায় ৪.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

শুধু বর্তমান আয়ই নয়, ভবিষ্যৎ আয়ও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পানামা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত দেশটির ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, খাল থেকে ৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরাসরি জাতীয় কোষাগারে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩.৬১ বিলিয়ন ডলার।

এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (অক্টোবর ২০২৫-মার্চ ২০২৬) ছয় হাজার ২৮৮টি জাহাজ খাল অতিক্রম করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৪টি বেশি। এ সময়ে খাল দিয়ে ২৫৪ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪৩ মিলিয়ন টন।

সুয়েজে কমেছে আয়, ফিরছে জাহাজ

এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর অন্যতম সুয়েজ খাল খনন শুরু হয় ১৮৫৯ সালের ২৫ এপ্রিল। ফরাসি প্রকৌশলী ও কূটনীতিক ফার্দিনান্দ দে লেসেপ্সের উদ্যোগে গঠিত ‘সুয়েজ খাল কোম্পানি’ ১০ বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিকের সহায়তায় এই বিশাল খালটি খনন করে এবং ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর উদ্বোধন হয়। মিসরের ভূখণ্ডে নির্মিত এই খাল ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে এশিয়া থেকে ইউরোপগামী জাহাজকে আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে যেতে হয় না।

‘সুয়েজ খাল কোম্পানি’ ৯৯ বছরের চুক্তিতে এই খালের পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় শুরুতে খালের মালিকানা ও আয়ের সিংহভাগ ছিল ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের হাতে। তখন আয়ের খুব সামান্য অংশই মিসর পেত। ১৯৫৬ সালের ২৬ জুলাই মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। এর ফলে খালের সম্পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ মিসরের হাতে চলে আসে। এটি মিসরের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান এবং শক্তিশালী একটি উৎস।

১৯৩.৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য এ পথের গুরুত্ব এত বেশি যে, লোহিত সাগরে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ার পর জাহাজগুলো যখন আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে শুরু করে, তখন শুধু জাহাজ পরিচালন ব্যয়ই বাড়েনি, মিসরের সুয়েজ খালের আয়ও বড় ধাক্কা খায়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সুয়েজ খালের আয় ছিল রেকর্ড একে হাজার ২৫ কোটি ডলার। কিন্তু লোহিত সাগর ও আশপাশের নিরাপত্তা সংকটের কারণে ২০২৪ সালে আয় ৬১ শতাংশ কমে ৩৯৯.১ কোটি ডলারে নেমে আসে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের (এসসিএ) হিসাবে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই ছয় বছরে মোট আয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরে গড়ে প্রায় ৬৬৭ কোটি ডলার।

তবে ২০২৬ সালে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মিসরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুয়েজ খাল থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪.৬৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

এসসিএ-এর চেয়ারম্যান ওসামা রাবির ভাষ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক হাজার ৩১৫টি জাহাজ থেকে প্রায় ৪৪৯ মিলিয়ন ডলার টোল আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে এক হাজার ২৪৩টি জাহাজ থেকে আয় হয়েছিল ৩৬৮ মিলিয়ন ডলার।

তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৬ সালের এপ্রিলেও সুয়েজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে খালটির বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এর আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

জার্মানির কিয়েল খাল

ইউরোপের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম জলপথ কিয়েল খাল। জার্মানির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরকে যুক্ত করেছে। ফলে ডেনমার্কের চারপাশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

পানামা বা সুয়েজের মতো বিপুল আন্তর্জাতিক টোল রাজস্ব না হলেও জার্মানির বন্দর ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে কিয়েল খালের গুরুত্ব অনেক। খালটির মাধ্যমে উত্তর ইউরোপের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়। ২০২৬ সালের মার্চে খালটিতে জাহাজ চলাচল ও পরিবহন ভলিউম বেড়েছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণ, লকগেটের সমস্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে জার্মানিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।

কিয়েল খালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব শুধু খালের টোলের অঙ্কে মাপা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত জার্মান বন্দর, লজিস্টিকস, জাহাজ চলাচল, শিল্প ও পরিবহন অবকাঠামো মিলিয়ে তৈরি হয় বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, খালটি দেশটির সামুদ্রিক অর্থনীতি বছরে ৫০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি টার্নওভার সৃষ্টি করে এবং রাইন, দানিয়ুবসহ অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রাইন-মেইন-দানিয়ুব

জার্মানির রাইন-মেইন-দানিয়ুব জলপথ ইউরোপের অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এটি উত্তর সাগরীয় বন্দর এলাকা থেকে ইউরোপের অভ্যন্তরভাগ হয়ে দানিয়ুব নদীপথের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছে। এই জলপথের গুরুত্ব বোঝা যায় পণ্য পরিবহনের সময়। জ্বালানি, কয়লা, খনিজ, শস্যসহ বিভিন্ন পণ্য ইউরোপের নদীপথে পরিবহন করা হয়। রাইন নদী বিশেষভাবে জার্মান শিল্পাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পানির স্তর কমে গেলে জাহাজগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং শিল্প উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে।

চীনের গ্র্যান্ড ক্যানেল

পৃথিবীর দীর্ঘতম কৃত্রিম জলপথগুলোর অন্যতম চীনের গ্র্যান্ড ক্যানেল। প্রাচীন এই জলপথ বেইজিং থেকে হাংঝৌ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং চীনের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে শত শত বছর ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। আধুনিক যুগে এসে নতুন প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর গুরুত্ব কমার পরিবর্তে আরো বাড়ছে। ২০২৫ সালে বেইজিং-হাংঝৌ গ্র্যান্ড ক্যানেলে কনটেইনার পরিবহন তিন লাখ ৭০ হাজার টিইইউ-তে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে চীন সরকার।

চীনের বৃহত্তর অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থার আকারও বিশাল। ২০২৩ সালে দেশটির জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ রেকর্ড প্রায় ৯.৪ বিলিয়ন টনে পৌঁছেছিল। এখানে খালের অর্থনৈতিক সুবিধা মূলত টোল নয়, কম খরচে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন, শিল্পাঞ্চল ও বন্দরকে সংযুক্ত করা এবং সড়ক ও রেলপথের ওপর চাপ কমানো, যা চীনা অর্থনীতিতে এর প্রভাব ফেলছে।

হিউস্টন শিপ চ্যানেল

বিস্তৃত জাহাজ চলাচলের জলপথ যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শিপ চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পোর্ট অব হিউস্টনের অসংখ্য টার্মিনাল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এর অর্থনৈতিক অবদান এত বড় যে, শুধু টোল দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়।

পোর্ট হিউস্টনের তথ্য অনুযায়ী, হিউস্টন শিপ চ্যানেল ও সংশ্লিষ্ট বন্দর অবকাঠামো ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৯৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অর্থনৈতিক অবদান রাখার পাশাপাশি প্রায় ৩৫ লাখ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

মূলত, একটি জলপথকে কেন্দ্র করে কীভাবে বন্দর, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, জ্বালানি, আমদানি-রপ্তানি, গুদাম, পরিবহন ও কর্মসংস্থানের বিশাল অর্থনীতি গড়ে উঠতে পারে, হিউস্টন তার উদাহরণ।

খালে ‘কুমির’ নয়, আসে ডলার

বিশ্বের এসব খালের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—খাল আসলে শুধু পানি কেটে তৈরি করা কোনো যোগাযোগপথ নয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।

পানামা খাল সরাসরি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এনে দিচ্ছে। সুয়েজ খাল মিসরের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিয়েল খাল ইউরোপের সমুদ্রবন্দরগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমাচ্ছে। চীনের গ্র্যান্ড ক্যানেল এবং হিউস্টন শিপ চ্যানেলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রায় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

তবে এসব সাফল্যের সঙ্গে নিয়মিত ড্রেজিং, নাব্যতা রক্ষা, লক ও সেতুর আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো জরুরি। পানামা খালের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেটিই দেখিয়েছে। খরার কারণে পানির স্তর কমে গেলে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং সরাসরি রাজস্বে প্রভাব পড়ে। আবার সুয়েজ খালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি অঞ্চলের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সংকট কীভাবে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশের রাজস্বকে আঘাত করতে পারে।

তাই খাল কাটা মানে শুধু একটি জলপথ তৈরি করা নয়; এর সঙ্গে তৈরি করতে হয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা। সঠিক পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা থাকলে সেই জলপথই হয়ে উঠতে পারে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, যেখান থেকে প্রতি বছর আসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন