মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: একদিনেই ডিএসই সূচক বাড়ল ১৬১ পয়েন্ট

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: একদিনেই ডিএসই সূচক বাড়ল ১৬১ পয়েন্ট
ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির নাটকীয় মোড়ে দেশের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ইরানকে ‘গুড়িয়ে দেওয়া’র হুমকির মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ বিরতির কথা জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণার পর পুরো বিশ্বের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্ক ও উদ্বেগের সাময়িক অবসান ঘটে। দেশের শেয়ারবাজারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতে গত কয়েকদিন ধরে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় তাতে যেন উৎসবের আমেজ লেগেছে! আজকের লেনদেনে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে।

বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তিনটি সূচকেরই বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে। এরমধ্যে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৬১ পয়েন্ট, শতকরা হিসাবে সূচক বৃদ্ধির এ হার ৩ দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া লেনদেনেও বড় গতি ফিরেছে। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়ে দিনশেষে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। গত দেড় মাসের মধ্যে এটিই ডিএসইর সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে ডিএসইতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী আমার দেশকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ১৪ দিনের বিরতি ঘোষণা হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যুদ্ধবিরতির এ ঘোষণার পর স্থায়ীভাবে একটি সমাধানের পথ মিলবে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও বাজারে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বর্তমান কমিশনকে যদি রেখে দেওয়া হয় সে ব্যাপারে একটি ঘোষণা থাকা উচিত। আর যদি না হয় তাহলে দ্রুত পরিবর্তন করা উচিত। এ ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান না থাকার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি।

নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া উচিত উল্লেখ করে জনাব লালী বলেন, বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিলে আইন-কানুন থেকে শুরু করে সবকিছু সম্পর্কে তারা দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ১৪০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। লেনদেনের শেষ অবধি বাজারে শেয়ার ক্রয়ের চাপ বজায় থাকায় সূচকের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে। দিনের শুরুতে ডিএসইএক্স ৫ হাজার ১৫৬ পয়েন্ট থাকলেও দিনশেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৩১৮ পয়েন্টে। অপরদিকে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ইস্যুগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭টির, কমেছে ১৫টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির দর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন