বহুল আলোচিত চীনা যুদ্ধবিমান মাল্টিরোল ফাইটার জেট-জে ১০ সিই ক্রয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজিক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষে এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, চীন থেকে এ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে কল্পনাও করা যেত না।
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, শুধু ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকেই নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত পলাতক সবাইকে দিল্লির কাছ থেকে ফেরত চায় ঢাকা। অপরাধীকে আমাদের সরকার অপরাধী হিসেবেই দেখছে, অন্য কোনোভাবে দেখছে না।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কর্মসূচি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা ও সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তথ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান—গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটিতে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর গৃহীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নানামুখী উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
রাফায়েল ভূপাতিত করে আলোচনায় জে-১০
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে হয়ে যাওয়া যুদ্ধে পাকিস্তান চীনের তৈরি এ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ফ্রান্স থেকে কেনা ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এর পরপরই চীনের তৈরি এ মাল্টিরোল ফাইটার জেট নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
চীনের তৈরি জে-১০ ফাইটারের সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত যুদ্ধে বাস্তব অভিজ্ঞতায় চীনের জে-১০ ফাইটারের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা হচ্ছে। ওই সময় ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জে-১০ ফাইটারের ভূমিকা ছিল বেশ কার্যকর।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাফাল ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক ফাইটারগুলোর অন্যতম। তবে, এটির বিপরীতে চীনের তৈরি মাল্টিরোল ফাইটার জে-১০ বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ চীনের তৈরি এ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বাধীনভাবে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ গুরুত্ব দিয়ে বৈদেশিক ও সামরিক নীতিতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। এর অংশ হিসেবেই জে-১০ ফাইটার কেনার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা সম্ভব হচ্ছে। ৫ আগস্টের আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না। এখন বাংলাদেশ তার নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে এই অর্থেই অনেকে বর্তমান সময়কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন। যদিও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে এক করে দেখছি না বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরকালে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা হয়ে আসছিল।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের এক ধরনের আপত্তি রয়েছে। ড. ইউনূসের চীন সফরের পর থেকে ভারত এই ইস্যুটি নিয়ে নানাভাবে মুখ খুলছে। চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে ঢাকার কূটনৈতিক একটি সূত্র জানিয়েছে।
দণ্ডিতদের ফেরত আনা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত আনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আছে এটা আমরা জানি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আমার জানামতে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে। আমার মনে হয় রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি তার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না।
তিনি বলেন, শুধু ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, আমরা তাদের সবাইকে দেশে ফেরত চাই।
একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, আমার মনে হয়, শেখ হাসিনা ওখানে গিয়েছিলেন একভাবে, কিন্তু ওই সরকার এখন পলিটিক্যালি ওই দায়ভার নিতে চাচ্ছেন না বলে এটা এখন জুডিশিয়ারির ওপরে দিয়ে দিচ্ছে। আমাদের তো চাওয়া একটাই, সেটা হলো—শুধু উনি (শেখ হাসিনা) কেন, প্রত্যেককেই আমরা ফেরত চাই। এই জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে এর আগেও যে ঘটনাগুলো, সেগুলোর সঠিক বিচার হোক এটা আমরা চাই।
সার সংকট নেই, বিতরণে সমস্যা : প্রতিমন্ত্রী
এদিকে সার বিতরণের বিশৃঙ্খলা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে সারের সংকট নেই। তবে কোথাও কোথাও সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুত ব্যবস্থাও নিচ্ছে। তিনি বলেন, যেখানে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই এ সংকট কেটে যাবে বলেও জানান তিনি।
সম্পাদনায়: আলম
নোমান
০১৭৯৬৫৩৬৬০২
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

