অর্থনীতির গতি বুঝতে পিএমআই সূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: এমসিসিআই

অর্থনীতির গতি বুঝতে পিএমআই সূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: এমসিসিআই

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত বোঝার ক্ষেত্রে পারচেজিং ম্যানেজারস’ ইনডেক্স (পিএমআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই সূচক তৈরিতে বিজনেস ডেটা সংগ্রহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, সূচকটি তৈরিতে কমবেশি ৫০০ কোম্পানির থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে কোম্পানিগুলোকে ১০ থেকে ১২ বার বলার পর এবং তাদের বড় অংশই সশরীরে সাক্ষাত ছাড়া তথ্য দেওয়ার আহ্বানে সাড়া দেয় না।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজা কনকর্ড টাওয়ার-২-এ এমসিসিআই কনফারেন্স হলে “বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজারস’ ইনডেক্স: ইন্সটিটিউশনাল ট্রানজিশন অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড” শীর্ষক সেমিনারে ফারুক আহমেদ এসব কথা বলেন। এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড মেটারিয়াল ম্যানেজমেন্টের (এসআইপিএমএম) সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠান হয়।

সেমিনারে ফারুক আহমেদ বলেন, প্রতি মাসের ২০ থেকে শুরু করে ২৮ তারিখের মধ্যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করতে হয়। তবে এটার মূল উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার। কিন্তু কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবসায়িক সিক্রেট, তথ্যের গোপনীয়তাসহ বিভিন্ন কারণে তথ্য দিতে চায় না। তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমরা পিএমআই সম্পন্ন করতে পেরেছি। এ জন্য এমসিসিআইয়ের সদস্য ও তথ্যদাতা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধন্যবাদ জানাই।

সম্প্রতি এমসিসিআই এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ প্রকাশিত পিএমআই অনুযায়ী, সর্বশেষ জুলাই মাসে পিএমআই আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫৭ দশমিক ৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা গেছে, দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের উৎপাদন খাতও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

এদিকে, অনুষ্ঠানে সূচকের তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের ইকোনমিস্ট অ্যান্ড সিনিয়র অ্যাডভাইজার হাসনাত আলম। বক্তব্য দেন এফসিডিওর সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার অ্যাডাম আস্পডেন। এ সময় এমসিসিআইয়ের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের পিএমআই প্রস্তুত করতে প্রতি মাসে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের মোট ৪০০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ পরিচালিত হয়। এর মধ্যে কৃষি খাতে ৪৬টি, উৎপাদনে ৯২টি, নির্মাণে ৫০টি এবং সেবা খাতে ২১২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে সরকারি জিডিপি, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান বা অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে সময় লাগে।

পিএমআই দ্রুত প্রকাশিত হওয়ায় অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সময়োপযোগী ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়। ফলে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য দুর্বলতা বা ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারকরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ পান। একইভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ কারণে পিএমআইকে অর্থনীতির একটি কার্যকর আগাম সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন