আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি মাসে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে । তবে বেশ কয়েক বছর তালিকার শীর্ষ পাঁচে থাকলেও সেখান থেকে ছিটকে গেছে ভারত। খবর দ্য ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের।
একটি দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী, তার ওপর নির্ভর করে সেখানকার রাস্তাঘাটের মান, গণপরিবহন ও খাবারের পরিবেশ। এমনকি সাংস্কৃতিক সুযোগ-সুবিধাও প্রভাবিত হয়। এখানেই মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ভূমিকা আসে। একটি দেশের অর্থনীতি কতটা শক্তিশালী, তা বোঝার জন্য জিডিপি অন্যতম প্রচলিত একটি উপায়।
আইএমএফের সর্বশেষ বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস (এপ্রিল ২০২৬) অনুসারে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ শক্তি এবং উদীয়মান শক্তি উভয়কেই প্রতিফলিত হতে দেখা যাচ্ছে। এ বছর যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষেই রয়েছে, অন্যদিকে ভারত ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে।
২০২৬ সালে মোট বৈশ্বিক জিডিপি আনুমানিক ১২৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি আসবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিশ্বের ১১টি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে জি৭-এর সব সদস্য এবং চারটি বৃহত্তম ব্রিকস দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
যদিও আগের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ২০২০-এর দশকে চীন এটিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে নতুন হিসাব অনুযায়ী ২০৩০-এর দশকের বেশ পরও যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ৩২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। এর পরই রয়েছে চীন, যার অর্থনীতি প্রায় ২০ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে জার্মানি তৃতীয়, জাপান ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ এবং যুক্তরাজ্য প্রায় ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে শীর্ষ পাঁচের তালিকাটি সম্পূর্ণ করেছে।
এদিকে ভারত এখন ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান মার্কিন ডলারে পরিমাপ করা নামমাত্র জিডিপির নিরিখে জাপান ও যুক্তরাজ্য দেশটিকে ছাড়িয়ে গেছে। আইএমএফের অনুমান অনুযায়ী, চলতি বছর শেষে ভারতের অর্থনীতির আকার হবে ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। এর বিপরীতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ৪ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং জাপানের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার হবে।
তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারত ২০২৫ সালে ষষ্ঠ, ২০২৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পঞ্চম এবং ২০২১ সালে ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল।
ভারতের এ অবস্থানের পরিবর্তন মূলত মুদ্রার বিনিময় হার এবং জিডিপি গণনার নতুন ভিত্তি বছর নির্ধারণের কারণে হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ সালকে নতুন ভিত্তি বছর ধরে দেশটির সরকার তার পদ্ধতি হালনাগাদ করেছে এবং নতুন তথ্যসূত্র অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া আগের পরিসংখ্যানগুলোতে জিডিপি প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেশি দেখানো হয়েছিল এবং ২০২৫-২৬ সালের জন্য অর্থনীতিকে ৩৫৭ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে ৩৪৫ ট্রিলিয়ন রুপিতে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে যেহেতু আইএমএফ মার্কিন ডলারের হিসাবে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির তুলনা করে, তাই এখানে বিনিময় হার একটি বড় ভূমিকা পালন করে। গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে; যার প্রাথমিক কারণ ছিল মার্কিন শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা।
অবশ্য ভারত তার হারানো অবস্থান ফিরে পাবে বলে আশা করছে আইএমএফ । সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য ও জাপানকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে জার্মানিকে অতিক্রম করে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

