ভ্যাট রিটার্নের পর এবার ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আয়কর রিটার্নও অডিটের জন্য বাছাই (নির্বাচন) করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৩-২৪ করবর্ষে দাখিল করা আয়কর রিটার্ন থেকে ৭২ হাজার ৩৪১টি রিটার্ন অডিটের জন্য বাছাই করা হয়েছে। এর আগে চলতি এপ্রিল মাসে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে ভ্যাটের ৬০০ রিটার্ন অডিটের জন্য যাচাই করা হয়েছিল। ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে অডিট যাচাইয়ের জন্য স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্বাচন করায় অডিট সিলেকশনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সুশীল সমাজের দাবির বাস্তবায়ন হয়েছে বলে এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার অডিট নির্বাচনের বিষয়ে এনবিআরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আয়কর কিংবা ভ্যাটের অডিট নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছিলেন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, হয়রানির উদ্দেশ্যে কিংবা আর্থিক সুবিধা আদায়ে প্রতি বছরই একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে যারা সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করছেন তাদেরও অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়। সাধারণত যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য অডিট মানেই একটা আতঙ্ক। এ কারণে অডিটের কথা বলে অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এনবিআর কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অডিট সিলেকশনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিভিন্ন সময়ে দাবি জানিয়ে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর আবদুর রহমান খান অডিট নির্বাচন বন্ধ রাখেন। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন (সিলেকশন) না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনবোধে ‘কেয়ামত পর্যন্ত’ অডিট সিলেকশন বন্ধ থাকবে—এমন ঘোষণাও দেন তিনি। সাধারণত অডিটের মাধ্যমে কর ফাঁকির ঘটনা উদঘাটন করা হয়, ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। অডিট বন্ধ থাকার কারণে সরকারের রাজস্ব আহরণ বিঘ্নিত হচ্ছে—এমন অভিযোগও করেন অনেকে। অবশেষে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি অনুসরণ করে অডিট সিলেকশন শুরু করল এনবিআর।
এনবিআরের তথ্যানুযায়ী, প্রত্যেক সার্কেলের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ এবং সর্বনিম্ন ২০ জনকে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যেসব সার্কেলে কর ফাঁকির প্রবণতা বেশি, সেসব সার্কেল থেকে বেশিসংখ্যক অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে বলে এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান। ২০২৩-২৪ করবর্ষের জন্য গত ২৫ জুলাই দৈবচয়ন পদ্ধতিতে (র্যানডম সিলেকশন) ১৫ হাজার ৪৯৪টি মামলা অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডে এগুলোকে নির্বাচন করা হয়নি।
এদিকে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডে অডিট সিলেকশনের বিষয়ে জানতে চাইলে কর আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম আমার দেশকে বলেন, হাতের স্পর্শছাড়া সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে সিলেকশনের ফলে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আর থাকল না। এর ফলে অডিট সিলেকশনে একধরনের স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। তবে কেউ যদি ৫০০ কোটি টাকা সম্পদের মালিক হন কিন্তু পাঁচ হাজার টাকা আয়কর রিটার্নে দেখান, তাহলে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডে অডিট সিলেকশনে সেটি নাও পড়তে পারে। ফলে সম্পদ লুকানোর একটা সুযোগ তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

