বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা
ইজতেমা মাঠ। ফাইল ছবি

আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতেই ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর যুক্তিসংগত সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজন করতে চায় সাদপন্থীরা। এ বিষয়ে অপর পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতামত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সরকার সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অতীতে ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাদপন্থীদের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুবায়েরপন্থীরা প্রস্তাবিত প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করতে চান। অন্যদিকে সাদপন্থীরা রমজানের আগে, ওই দুই পর্বের পর মধ্যবর্তী কোনো সময়ে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া নভেম্বরের শেষ দিকে, প্রস্তাবিত দুই পর্বের ইজতেমা শুরুর আগেও তারা ইজতেমা আয়োজন করতে চান।

এর আগে সাদপন্থীদের অন্য কোনো স্থানে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছিল। তবে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অন্য কোথাও ইজতেমা করতে সম্মত হননি। সরকার দুই পক্ষকেই একসঙ্গে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয় হিসেবে মাওলানা সাদের আগমনের বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে। ভিসানীতি অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইজতেমার তারিখ ও আয়োজন নিয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশাল অস্থায়ী ক্যাম্প গড়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসেন। বিদেশ থেকেও বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।

ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানে মুসল্লিদের থাকা, খাবার, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন