রপ্তানি বাড়াতে নতুন ছক সরকারের

রপ্তানি বাড়াতে নতুন ছক সরকারের
ছবি: এআই

দেশের রপ্তানি খাতকে আরো গতিশীল, শক্তিশালী ও টেকসই করতে নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন ছক তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় পণ্য, রপ্তানি বাজারের চিত্র, রপ্তানি বাড়াতে বাধা বিশ্লেষণ করে ১৮টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রপ্তানি বাড়াতে প্রণয়ন করা হবে সমন্বিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশলপত্র। প্রতিটি দেশের জন্য তৈরি করা হবে বাজারভিত্তিক আলাদা রপ্তানি কৌশলপত্র। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে দেশের পণ্যের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত হবে এবং রপ্তানি আয় আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি কর্মশালা করেছে। কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে। যারা রপ্তানি সম্প্রসারণে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

কর্মশালার কার্যপত্র গেটে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, রপ্তানিতে তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে নতুন নতুন পণ্যের পাশাপাশি নতুন বাজার দরকার। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব দেশের বাজারকে নতুন পণ্যের রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে অনুসন্ধান শুরু করেছে তার মধ্যে রয়েছে কোরিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ইউএই, ইরান, তুরস্ক, কানাডা, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং রাশিয়ার মতো বড় বড় অর্থনীতির দেশ।

জানা গেছে, তৈরি পোশাকের বাইরে এসব বাজারে মেডিসিন, ফার্নিচার, খেলনা, বাইসাইকেল, রেফ্রিজারেটর, ফুটওয়্যার, চা, ফল, সবজি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালাল খাদ্য, উচ্চমূল্যের পোশাক পণ্য, হিমায়িত বা তাজা মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকস, প্লাস্টিক পণ্য উল্লেখযোগ্য।

জানা গেছে, উল্লিখিত দেশগুলোয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত ইকোনমিক মিনিস্টার এবং কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য সম্ভাবনাময় পণ্য, রপ্তানি বাজারের চিত্র, রপ্তানি বাড়াতে বাধা বিশ্লেষণ এবং বড় প্রতিযোগী দেশগুলোর বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছিল। এসব দেশের পাঠানো তথ্য সমন্বয় করে কর্মশালা বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, এই বাজারগুলোয় শুধু নতুন পণ্যের প্রসারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নজর দিচ্ছে না। বরং বড় বড় প্রতিযোগী যারা আছে তাদের সঙ্গে কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা যায় সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ এই বাজারগুলোয় বড় প্রতিযোগী দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত, ইতালি, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া এবং জার্মানির মতো বড় প্রতিযোগী দেশগুলো। এর মধ্যে ১৮টি দেশের বাজারেই বড় পরিসরে রপ্তানি করে চীন। ভিয়েতনাম ১৪টিতে, ভারত ১১টিতে, ইতালি আটটিতে, তুরস্ক সাতটিতে, ইন্দোনেশিয়া ছয়টিতে, কম্বোডিয়া এবং জার্মানি পাঁচটি গন্তব্যে বড় রপ্তানি করে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জ আসবে তাকে মোকাবিলা করার জন্য সরকার এই পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এজন্য নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার তৈরির জন্য যেখানে যেমন পরিকল্পনা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি, সেপা, মানদণ্ড পূরণে সার্টিফিকেশনের ঘাটতি পূরণ, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, শুল্ক চুক্তির মতো পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পণ্য এবং এর নকশায় বৈচিত্র্য আনা, পণ্য উৎপাদনে কমপ্লায়েন্স ও সার্টিফিকেশন পদ্ধতি প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ, অবকাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ, বাজার বিশ্লেষণ ও ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ, নিয়মিত পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিন্থেটিক ও টেকনিক্যাল পোশাক, উন্নত চামড়াজাত পণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি বাড়ানো প্রয়োজন।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী মোটাদাগে চামড়া শিল্পের পরিবেশগত ও টেকসই মানদণ্ড সনদ, রাসায়নিক পদার্থের নিবন্ধন, মূল্যায়ন, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ সনদ, মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমতিপত্র, যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সনদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির অনুমোদন, ইরানের মান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সনদ ও হালাল সনদ গ্রহণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব বাজারে প্রতিযোগিতা করতে গেলে বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী এসব মানদণ্ড পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন