শিরোপার লড়াইয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা

শিরোপার লড়াইয়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শ্রীলঙ্কা, হারানো মুকুট পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি। এবারের টুর্নামেন্টে দুদলই এখন পর্যন্ত অপরাজিত। ফলে ফাইনালের আগে পরিসংখ্যান, সাম্প্রতিক ফর্ম কিংবা আত্মবিশ্বাস—কোনো দিক থেকেই এক দলকে খুব বেশি এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। বরং ভারত-শ্রীলঙ্কার এই লড়াই হয়ে উঠতে পারে ব্যাটিং শক্তি বনাম স্পিন আক্রমণের এক আকর্ষণীয় দ্বৈরথ।

বিজ্ঞাপন

ভারত ফাইনালে এসেছে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে। প্রথমে ব্যাট করে কঠিন উইকেটে ১৪৯ রান তুলেছিল তারা। শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা ভারতীয় ব্যাটারদের চাপে রাখলেও শেফালি বর্মার ৬৪ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস এবং শেষ দিকে রিচা ঘোষ, হারমানপ্রিত কৌর ও দীপ্তি শর্মার কার্যকর অবদানে লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় ভারত। পরে ভারতীয় স্পিনাররা বাংলাদেশের ব্যাটিংকে আটকে দিয়ে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। দীপ্তি শর্মা ৩ উইকেট নিয়ে আবারও দলের বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেন।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সেখান থেকে হারশিতা সামারাবিক্রমা ও কাভিশা দিলহারির ৬৭ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ দিকে নিলাক্ষি ডি সিলভা ও কৌশানি নুথ্যাঙ্গনা ঠান্ডা মাথায় দলকে জয় এনে দেন। ৮ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।

ফাইনালের সবচেয়ে বড় লড়াই হতে পারে ভারতের শক্তিশালী টপ অর্ডার ও শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিন আক্রমণের মধ্যে। ভারতীয় ব্যাটিংয়ে শেফালি বর্মা ও স্মৃতি মান্ধানা এবারের আসরে বড় ভূমিকা রেখেছেন। শেফালি এখন পর্যন্ত ১৬৮ রান করেছেন, আর মান্ধানার সংগ্রহ ১৫৪। দুজনের স্ট্রাইক রেটই ১৬৯-এর ওপরে—যা ভারতের পাওয়ারপ্লে ও শুরুর ওভারগুলোতে বড় সুবিধা দিচ্ছে।

তবে শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণে রয়েছে ভারতের ডানহাতি-নির্ভর টপ অর্ডারকে আটকে দেওয়ার মতো অস্ত্র। বাঁহাতি স্পিনার সুগান্ধিকা কুমারি এবং ১৭ বছর বয়সী চামুদি প্রাবোধা ভারতীয় ব্যাটারদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে দুবাইয়ের উইকেটে বল কিছুটা ধীর হলে শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

শ্রীলঙ্কার মতো ভারতের বোলিংয়েও স্পিন বড় শক্তি। এবারের আসরে ভারতের স্পিনাররা নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমিয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত মাত্র ৫৫ রানে প্রতিপক্ষকে অলআউট করেছিল। তরুণ বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চরানি জানিয়েছেন, ভারতের তিন স্পিনার ম্যাচের আগে একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করেন এবং মাঠে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দেন।

দীপ্তি শর্মাও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি এবারের এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার হয়েছেন। ১১ উইকেট তাঁর দখলে, গড় মাত্র ৩.৬৩। ফলে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে সামলানোর ক্ষেত্রে ভারতের জন্য দীপ্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কার নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাঁর নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখেন। ম্যাচ শেষে আতাপাত্তু বলেন, ফাইনালে নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে।

তবে শ্রীলঙ্কার শক্তি শুধু আতাপাত্তুর ওপর নির্ভর করছে না। তরুণ ব্যাটারদের কাছ থেকেও এবারের টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এসেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিপর্যয় সামলে ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে হারশিতা, কাভিশা, নিলাক্ষি ও কৌশানিদের অবদান দেখিয়েছে—চাপের মুহূর্তে দলটি লড়াই করার ক্ষমতা রাখে।

ফাইনালের আরেকটি আকর্ষণ দুই দলের সাম্প্রতিক এশিয়া কাপ ইতিহাস। ২০২২ সালের ফাইনালে ভারত শ্রীলঙ্কাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। দুই বছর পর ২০২৪ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়। এবার তাই পরপর তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। দুবাইয়ে রোববারের ফাইনালে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটিই এখন দেখার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন