শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, চীন সফরে আমরা দেখেছি তাদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরাও সেই মডেলটি অনুসরণ করতে চাই। চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাও অত্যন্ত উন্নতমানের। তারা এদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপও প্রদান করছে।
তিনি রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, চীন থেকে যারা এদেশে ভাষা-শিক্ষক হিসেবে আসতো, তাদের ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল ছিল। এই ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ইতমধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে চীনের সাম্প্রতিক সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ২৫-২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। বৈঠকে চীন সফরকে অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সফরকালে চীন–বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় উভয় পক্ষ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী, শিক্ষা–শিল্প সংযোগ, গবেষণা কেন্দ্র, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করবে।
এছাড়াও এই সম্মেলনে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে: চীন–বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ “চাইনিজ ল্যাংগুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট” সহযোগিতা কেন্দ্র।
এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ–চীন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এগুলো বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা, শিল্পের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও দৃঢ় সংযোগ স্থাপন করবে বলে বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর চীন সফর পরবর্তী বিস্তারিত তথ্য জানানে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সোমবার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


