আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আমার দেশ-এর সাংবাদিককে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা

স্টাফ রিপোর্টার

আমার দেশ-এর সাংবাদিককে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-১৪ আসনের ইউসেফ ইসমাইল টেকনিক্যাল স্কুলের ১ নম্বর কেন্দ্রে (১৪৫, মহিলা ভোটার-১) দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পৌনে ১২টার দিকে কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা প্রিসাইডিং অফিসারের দোহাই দিয়ে তাকে প্রবেশে বাধা দেন।

বিজ্ঞাপন

কর্তব্যরত সাংবাদিক কেন্দ্রে প্রবেশ করতে গেলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বলেন, এই কেন্দ্রে কোনো সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না, সম্পূর্ণ নিষেধ আছে। আপনি সাংবাদিক হন আর যেই হন, ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। আপনার কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে আপনি অপেক্ষা করেন— প্রিজাইডিং অফিসার স্যার আছেন, তার সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি কোথায় আছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, আপনি গেটের বাইরে অপেক্ষা করেন ডেকে দিচ্ছি। এ সময় ওই সাংবাদিককে গেটের বাহিরে বের করে দেওয়া হয়।

পরে ইউসেফ ইসমাইল টেকনিক্যাল স্কুলের ১ নম্বর কেন্দ্রের (১৪৫, মহিলা ভোটার-১) প্রিজাইডিং অফিসার মো. মিজানুর রহমান গেটে আসলে তাকে আবার গেটের ভিতর প্রবেশ করতে দেওয়া হয় এবং প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আপনি কেন্দ্রের ভেতরেই আছেন।

ইসির অনুমতির বিষয়টি উল্লেখ করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম কেন পর্যপেক্ষণ করতে দেওয়া হচ্ছে না- জানতে চাইলে তিনি ডকুমেন্ট দেখতে চান। ইসি থেকে দেওয়া আইডি কার্ড দেখালে তিনি বলেন, আপনার আইডিতে যা যা বলা আছে আপনি সবই পাচ্ছেন। আপনি কী তথ্য চান, বলেন দিচ্ছি। কিন্তু কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কারণ ভেতরে ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নেই। আপনি ভেতরে ঢুকলেই তো আগে ক্যামেরা বের করে ছবি তুলবেন।

ইসি ছবি তোলার ও ভিডিও করার অনুমতি দিয়েছে জানালে তিনি আরো বলেন, না, ইসি থেকে কোনো অনুমতি দেয়নি। আপনি ভোটের তথ্য জিজ্ঞেস করেন, অন্য তথ্য জিজ্ঞেস করে ঝামেলা করার দরকার নেই।

ভোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা নারী ভোট কেন্দ্র। এখানে মোট ভোটার ২৯৬৪ জন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। খুবই সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে এবং সবকিছু সিসি ক্যামেরার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখানে কোনো সমস্যা নেই।

এদিকে, একই স্কুলের ২ নম্বর কেন্দ্র (১৪৬, পুরুষ ভোটার-১) পুরুষ ভোটারদের ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। একই প্রবেশপথ দিলে ভোটারদের প্রবেশ করিয়ে তাদের স্ব স্ব কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রটিতে ভোটারের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নারী ভোটাররা সরাসরি প্রবেশ করতে পারলেও কেন্দ্রের বাইরে পুরুষ ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৮৮৫ জন।

ঢাকা-১৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ১০৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই আসনে মোট ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮৯৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে মোট প্রার্থী ১২ জন।

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, জামায়াত মনোনীত মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মো. সোহেল রানা, এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...