বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি শিক্ষকদের

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি শিক্ষকদের

বেসরকারি শিক্ষকদের বৈষম্য দূরীকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) ও বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদ (বিপিসি)।

বিজ্ঞাপন

রোববার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। এর ফলে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এ বৈষম্য দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।

শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে স্বতন্ত্র ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠনের ওপর জোর দেন শিক্ষক নেতারা। তাদের মতে, শিক্ষাঙ্গনে দলাদলি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে বর্তমান গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি প্রথাও বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। এর পরিবর্তে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মতো নিয়মনীতি চালুর আহ্বান জানান তারা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অনুমোদন না দিয়ে জরিপের মাধ্যমে চাহিদার ভিত্তিতে বা ‘নিড বেসড’ পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এ ছাড়া বেসরকারি কলেজে সরকারি কলেজের মতো জনবল কাঠামো চালু, অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে পাঠদানরত শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করা এবং শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডসহ শিক্ষা প্রশাসনে বেসরকারি শিক্ষকদের আনুপাতিক হারে প্রেষণে বা সরাসরি নিয়োগের দাবি জানানো হয়। শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় ইউনেস্কো-আইএলওর ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের সনদ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তারা।

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় বেতন স্কেলের শতভাগ বাস্তবায়ন করে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধা-সরকারি (Semi-Government) শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা; সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব, বৈশাখীসহ অন্যান্য ভাতা প্রদান এবং অবসরকালীন জীবনের আর জনবল কাঠামো যুগোপযোগী করা, অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের পদ সৃজন ও উচ্চতর গ্রেড প্রদান, শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত, কলেজের জনবল কাঠামো যুগোপযোগী করা, অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের পদ সৃজন ও উচ্চতর গ্রেড প্রদান, শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়োগ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাকশিস সভাপতি অধ্যক্ষ মো. ইসহাক হোসেন, বিপিসি সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান এবং বাকশিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ইলিম মোহাম্মদ নাজমুল হোসেনের স্বাক্ষর করা লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এ সময় অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, অধ্যক্ষ সাহিদুন নাহার, অধ্যক্ষ রেজাউল হক, অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ ইউসুফ সুমনসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন