দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সাংস্কৃতিক লড়াইকে আরো শাণিত করতে হবে। এ লড়াইকে শাণিত করতে কবিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, আমার দেশ শুধু একটি পত্রিকা নয়, এটি একটি লড়াইয়ের হাতিয়ার। ২০০৮ সাল থেকে এক ধরনের লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছি। লড়াইটা কীসের বিরুদ্ধে? লড়াইটা হচ্ছে—বিদেশি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে। পত্রিকাটির যাত্রা শুরু থেকেই জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে আসছে। মাঝখানে পত্রিকার বন্ধ করে আমাদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। আবার শুরু করেছি। মাত্র কয়েক মাস হলো।
‘জুলাই-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্যচিন্তা’ শীর্ষক আমার দেশ গোলটেবিল সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন। শনিবার পত্রিকাটির কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মাহমুদুর রহমান বলেন—যেহেতু আমরা লড়াইয়ের কথা বলছি; এখানে বড় অংশেই লড়াইটা হচ্ছে সংস্কৃতির লড়াই। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে সাংস্কৃতিক লড়াইকে আরো শাণিত করার বিকল্প নেই। এ লড়াইকে শাণিত করতে হলে কবিদের প্রয়োজন।
আমার দেশ সম্পাদক বলেন—বাংলা সাহিত্য আমরা যদি দেখি, দুর্ভাগ্যবশত বাঙালি মুসলমানদের চিত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমরা যাদের উপন্যাস পছন্দ করি—রবীন্দ্রনাথ, বিভূতিভূষণ, সমরেশ ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু আমরা বাঙালি মুসলমানদের খুঁজে পাই না। খুঁজে পাওয়ার যে চেষ্টা সেটা এখনো চলছে।
আমার দেশ এমন একটা প্লাটফর্ম করতে চাই—যেখানে তরুণরা এমন সাহিত্য রচনা করবে, সেখানে বাঙালি মুসলমানদের চিত্র ফুটে উঠবে। আমাদের আশা আকাঙ্ক্ষা ও বেদনার কথা ফুটে উঠবে। আমাদের ইতিহাস বেশি মাত্রায় প্রতিফলিত হবে, সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যতদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে আছি ততদিন এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। এই সাহিত্য পাতার মাধ্যমে নতুন নতুন সাহিত্য সৃষ্টিতে সহায়ক হবে মনে করেন সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

পত্রিকাটির সাহিত্য সম্পাদক মুহিম মাহফুজের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন—লেখক ও গবেষক ড. ওয়াকিল আহমদ, কবি ও প্রতিধ্বনি বিডি.কমের সম্পাদক সাখাওয়াত টিপু, লেখক ও চিন্তক মুসা আল হাফিজ, কবি ও চিন্তক ইমরুল হাসান, কবি ও গল্পকার জহির হাসান, কবি ও শিক্ষক শান্তা মারিয়া, কবি হাসান রোবায়েত প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


জুলাইয়ের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ