রাজধানীর পাশে গোপন ইয়াবা কারখানার সন্ধান, আটক ৪

রাজধানীর পাশে গোপন ইয়াবা কারখানার সন্ধান, আটক ৪
র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আমার দেশ

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে এবার ধরা পড়ল অভিনব এক মাদক কারখানা। মিয়ানমার কিংবা সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে নয়, একেবারে ডেক্সচি-পাউডার মেখে ঘরে বসেই তৈরি হচ্ছিল প্রাণঘাতী ইয়াবা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-১০) একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে ‘হোমমেড’ ইয়াবা কারখানার সন্ধান পেয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, কাঁচামাল ও ম্যানুয়াল প্রেস মেশিনসহ চারজন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কারওয়ানবাজারে অবস্থিত র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক (পরিচালক) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুরচর এলাকায় এক গোপন আস্তানায় এ ঝটিকা অভিযান চালায় র‌্যাব-১০-এর সদর কোম্পানির একটি দল।

অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের প্রায় ১ হাজার ৯৬৮ পিস তৈরি ইয়াবা ট্যাবলেট। এছাড়া ট্যাবলেট বানানোর বিভিন্ন রাসায়নিক পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, ইয়াবার আকৃতি দেওয়ার ডায়াস ও ম্যানুয়াল যন্ত্র, ৫টি মোবাইল ফোন এবং একটি সূক্ষ্ম ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আটককৃতরা হলেন— বংশাল চাঙ্গেরপুল এলাকার মৃত সবুরের ছেলে মাদক চক্রের অন্যতম হোতা মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মোহাম্মদপুর বাবর রোড এলাকার মো. কামরুদ্দীনের ছেলে মো. আলী আরমান (৩৬), সাভারের মো. কাশেমের ছেলে মো. শাহজাহান (৪০) এবং আদাবর রিংরোড এলাকার মৃত শফিকের মেয়ে সোনিয়া (৩০)।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের মূল পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত পেরিয়ে আসা মূল চালানের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই রাসায়নিক সংমিশ্রণে নকল ইয়াবা তৈরি করা। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও কেমিক্যাল পাউডার সংগ্রহ করে দুর্গম এই আস্তানায় রাতারাতি ইয়াবা বানিয়ে ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে আসছিল। চক্রটিতে একজন নারী সদস্যও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।

গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর ওরফে ‘আন্ডে’ একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় অন্তত তিনটি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সীমান্তপথে মাদকের কড়াকড়ির কারণে এই চক্রটি কম খরচে ঘরে বসেই ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বিপজ্জনক এসব ট্যাবলেট বাজারজাত করছিল।

আটককৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষ করে জব্দকৃত মালপত্র ও যন্ত্রপাতিসহ তাদের কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো গডফাদার কিংবা কেমিক্যাল সরবরাহকারী রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন