আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিদেশি বিনিয়োগের ফাঁদে ৫ কোটি টাকার প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

স্টাফ রিপোর্টার

বিদেশি বিনিয়োগের ফাঁদে ৫ কোটি টাকার প্রতারণা, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রাম-এ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের আশ্বাস দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় মূলহোতা ও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি দল পঞ্চগড় জেলার সদর থানাধীন ধাক্কামারা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫)–কে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানা এলাকা থেকে সহযোগী সাগর আহমেদ (২৪)–কে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ফারদিন ও তার সহযোগীরা টেলিগ্রামে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’ নামে গ্রুপ খুলে সদস্যদের কাছে স্বল্প সময়ের মধ্যে উচ্চ মুনাফার আশ্বাস দেয়া হতো। গ্রুপে সদস্য যুক্ত হলে ভেতরে কিছু ‘সদস্য’ বিনিয়োগ করে লাভ করেছে, এমন টেস্টিমনি পোস্ট দেখিয়ে বিশ্বাস জাগানো হতো। কিন্তু আসলে এসব পোস্টই ছিল প্রতারণার ফাঁদ। এরপর সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ উৎসাহ পেয়ে গ্রুপে অর্থ দেয়।

লেনদেনের জন্য তারা বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) একাউন্ট ব্যবহার করছিল- অনেকে জানতে পারছিল না এমন একাউন্ট নিজ নামে খোলা হয়েছে।

পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তদন্তভার গ্রহণ করে দ্রুত অভিযান চালিয়ে উক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

তদন্তে আরো জানা গেছে, ফারদিন বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৩০টিরও বেশি ব্যাংক ও এমএফএস একাউন্ট এবং একাধিক সিমকার্ড নিয়ন্ত্রণে রেখে এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। সহযোগী সাগর ছিলেন “Rio” নামে একটি ফেক টেলিগ্রাম আইডির মাধ্যমে ‘এলেক্সা উইক’ নামের গ্রুপের অ্যাডমিন। গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ছিল সাত জন।

ফারদিন গাড়ি শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমেই গাড়ি কিনে এক মাসের মধ্যে কম দামে বিক্রি করে কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ তুলে নিত। এই পদ্ধতিতে তারা প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করেছিল। মূলহোতা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তার নিয়ন্ত্রণাধীন একাউন্টগুলোর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে।

আটক দুই আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমানে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সিআইডি ‘র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের নামে দ্রুত আয়ের লোভ দেখিয়ে এমন চক্র গঠন করেছে; এসব চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন