ক্যানসার চিকিৎসাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

স্টাফ রিপোর্টার

ক্যানসার চিকিৎসাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়া আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

দেশব্যাপী বাড়ছে ক্যানসারের রোগী। তবে মরণব্যাধি এই রোগের চিকিৎসায় সরকারিভাবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় প্রতিবছর বহু রোগী চিকিৎসা না পেয়েই মারা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ক্যানসার নির্ণয়েও বড় ঘাটতি রয়েছে। এমতাবস্থায় ক্যানসার চিকিৎসাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা বলেছেন, ক্যানসার রোগীদের মানবিক মূল্যবোধ থেকে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের চিকিৎসাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে ক্যানসারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে বলে মত তাঁদের।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনটির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এম. ফখরুল ইসলাম। এছাড়াও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা, গাইনি ক্যানসার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেগম রোকেয়া আনোয়ার ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. জি এম আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মো. নওফেল ইসলাম। এ সময় তিনি জানান, দিগন্ত মেমোরিয়াল ক্যানসার ফাউন্ডেশন ক্যানারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে ক্যানসার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা একটি একটি ক্যানসার হোম পরিচালনা করছি। হাসপাতালে থাকার মতো করে ক্যানসার রোগীদের থাকা, চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াত, কাউন্সিলিং, নিয়মিত নার্স ও চিকিৎসকের মাধ্যমে ফলো-আপ, দুই বেলা পুষ্টিকর নাশতা, তিন বেলা নিয়ম মাফিক খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। ২০২৪ প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দেড় হাজার রোগীকে দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি। সকল পর্যায় থেকে ক্যানসার সচেতনতা বৃদ্ধি, লক্ষণসমূহের ব্যাপকভাবে পরিচিতি, রোগ নির্ণয় ও সহজলভ্যকরণ, উপযুক্ত রোগ নির্ণয়কারী প্যাথলজিষ্ট তৈরি, ক্যানসার পরিসংখ্যান ও চিকিৎসায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, রেডিওফিজিসিষ্ট ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া, রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা, যাতায়াত যেমন, বাস, ট্রেন ও বিমান ভাড়া ৭৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার ওপর জোর দেন তাঁরা।

এছাড়া সহজে ক্যানসার নির্ণয় ও রোগীদের চিকিৎসা খরচ সহজলভ্য করতে শনাক্তকরণে ব্যবহৃত রিএজেন্ট (পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপকরণ) ও রেডিওথেরাপি মেশিন, ওষুধে সরকারি শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানান ক্যানসার চিকিৎসকেরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন