এবার সিনেমার মতো অ্যাকশনে দেখা গেল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে। অস্ত্র হাতে নিজেই মাদকের আস্তানার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান ইশরাক । সেখানে মাদক কারবারে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়।

এ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।
শনিবার বিকেল ও সন্ধ্যায় ইশরাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। প্রথম ভিডিওটি পোস্ট করা হয় বিকেল সোয়া ৫টায় এবং দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টায়। প্রথম ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়—‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।’
১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওটির শুরুতেই প্রতিমন্ত্রীকে গাড়ি থেকে পিস্তল হাতে নামতে দেখা যায়। মুখে মাইক লাগিয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই দাঁড়াও। এখন বসো। পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে। তোরা শহরটাকে ধ্বংস করতে চাস। এলাকাটাকে ধ্বংস করতে চাস।’
এ সময় তাঁকে হাতের পিস্তল উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে তার সহযোগীদেরও দৌড়ে গিয়ে অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়, যার মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজনকে ধরে ফেলা হয়।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়—‘লাইভ অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেন ইশরাক, বিক্রেতারা ধরা।’ এই ভিডিওটিতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওগুলো প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একদিকে সরকারপ্রধান পজিটিভ ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছেন, আরেকদিকে এমন গর্দভের মতো কাজ করে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ করা তো হচ্ছেই, সাথে জনগণের সামনে একটা ঠাট্টা-তামাশার বস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে সরকার দলকে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


