অধ্যাপক আজাদ খান

গ্রামীণ জনপদে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে

গ্রামীণ জনপদে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেছেন, দেশের গ্রামীণ জনপদের মানুষের দোরগোড়ায় ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও সচেতনতামূলক সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি শিগগিরই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা দ্রুত গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শুধু চিকিৎসা নয়, ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইএইচএস হাসপাতালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আজাদ খান বলেন, দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসাসেবাও ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে এখনো ডায়াবেটিসের অধিকাংশ চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা শহরাঞ্চলকেন্দ্রিক। এই সেবা দ্রুত গ্রামীণ জনপদে নিয়ে যেতে হবে। মানুষের ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো ডায়াবেটিস সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকে সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেন না এবং চিকিৎসা গ্রহণেও দেরি করেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্‌রোগ, কিডনির জটিলতা, চোখের সমস্যা, স্নায়ুজনিত জটিলতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, ডায়াবেটিসকে শুধু একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ হিসেবে দেখলে হবে না; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই রোগ শনাক্তকরণ, নিয়মিত চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা—সবকিছু সমন্বিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে, শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষও যেন সহজে প্রয়োজনীয় ডায়াবেটিস চিকিৎসা ও পরামর্শ পান।

তিনি জানান, রাজধানীর বারডেমে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মিরপুরের বিআইএইচএস ভবনের আওতায় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের জন্য ডায়াবেটিসের চিকিৎসা, প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব। বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সচিব শহিদুল ইসলাম, ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য মতিউর রহমান লালটু, হেমায়েত উদ্দিন, ওয়াহিদুল ইসলামসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় ডায়াবেটিসের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, রোগ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন