সিলেটের বানিয়াচংয়ের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিউটন দাস সবুজকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে এক ভুক্তভোগী। গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ত্র্যুা্ব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বানিয়াচং উপজেলার সেকান্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ দাশ এই দাবি জানান।
ভুক্তভোগী জগদীশ দাশ অভিযোগ করে বলেন, নিউটন দাশ সবুজ দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে আমার পরিবারকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। তার অত্যাচারে আমি ও আমার পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক উপ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ সহকারী নৌ-পুলিশ চট্টগ্রাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নিউটন দাস সবুজ আমাদের ওপর অত্যাচারের স্টিম রুলার চালিয়েছে। ২০১৬ সালে ৩৫ তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে চাকরি হওয়ার পর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। কথায় কথায় আমাদের ওপর নির্যাতন চালায়। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। বারবার পুলিশ পাঠিয়ে আমাদের হুমকি দেয়। তার লোকজন দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। কোনো জায়গায় অভিযোগ নিয়ে গেলে কেউ আমাদের পাত্তা দেয়নি। নিউটন দাস সবুজের ভয়ে কেউ আমাদের সহযোগিতা করতে আসেনি। একদিকে দলীয় প্রভাব, অন্যদিকে পুলিশের বড় কর্মকর্তা হওয়ায় নিউটন আমাদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে আসছে।সম্মেলনে জগদীশ দাশ জানান, ২০০৪ সালের ১৪ মে নিউটনের পরিবারের সাথে আমাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওইদিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিউটন দাশ সবুজ গংদের সাথে আমাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমিসহ আমার পক্ষের ৩জন গুরুতর আহত হই। বেশ কিছুদিন আমরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হই। তবে আমি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। আমি গুরুতর আহত হওয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় আমার ভাগিনা পরিতোষ দাস বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় মামলা দায়ের করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, মামলাটি ২০১২ সালে যখন বিচারাধীন অবস্থায় তখন মামলার ১৫ নম্বর আসামি নিউটন দাস সবুজ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এটি রাজনৈতিক মামলা দেখিয়ে হবিগঞ্জ কোর্টের তৎকালীন পিপির মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেয়। পিপি কার্যালয় থেকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, হবিগঞ্জকে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- 'সবুজ দাস ওরফে নিউটন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিডিয়া সেন্টারের সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। মামলার অন্যান্য আসামিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের লোক। এমতাবস্থায় বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক সূত্রে বর্ণিত মামলাটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দানে মার্জি হয়।
চিঠি দেওয়ার পর বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের মামলাটি বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে আমরা মামলা বাতিলের বিপক্ষে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করি। বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

