মোহাম্মদপুরে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যা, ৭২ ঘণ্টায় দ্বিতীয় খুন

স্টাফ রিপোর্টার

মোহাম্মদপুরে লম্বু আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যা, ৭২ ঘণ্টায় দ্বিতীয় খুন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সপ্তাহ না পেরোতেই আবারও সংঘটিত হলো নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড। গত ১২ এপ্রিল কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বে ‘অ্যালেক্স ইমন’ খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রাণ হারালেন আসাদুল হক (২৮), যিনি স্থানীয়ভাবে ‘লম্বু আসাদুল’ নামে পরিচিত ছিলেন।

গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ইটখোলা এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে একই এলাকার রায়েরবাজার-বেড়িবাঁধ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নামে এক যুবক নিহত হন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় দুইটি হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের সাদেক খান ইটখোলা এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহতের বুক ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে পুলিশের ধারণা এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

কে এই আসাদুল?

নিহত আসাদুল হকের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কালনা এলাকায়। তার পিতার নাম জলিল সর্দার। তিনি মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, আসাদুল নিজেও অপরাধ জগতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

নেপথ্যে আধিপত্য ও মাদক

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তদন্তে ইতিমধ্যে মুন্না, নয়ন ও মিরাজ নামের তিনজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম। মোহাম্মদপুর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজার এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে একই এলাকার রায়েরবাজার-বেড়িবাঁধ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নামে এক যুবক নিহত হন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় দুইটি হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রাতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তারা দ্রুত দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠীগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন