পুলিশ

পূর্বশত্রুতা ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

পূর্বশত্রুতা ও আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে আসাদুলকে হত্যা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) হত্যার পেছনে পূর্বশত্রুতা ও আর্থিক বিরোধ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিচিত ব্যক্তিরাই তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। শনিবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রথমে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আকতার হোসেন (৪৫), মো. মুন্না (২৪), মিরাজ ফকির (২২) ও নয়ন ওরফে খোকন (২৪)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত আসাদুল ও আকতার হোসেনের মধ্যে আগে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আকতার মামলা করলে আসাদুল গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ চলমান ছিল। পাশাপাশি তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত দ্বন্দ্বও ছিল। এসব কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।

এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরো জানায়, নিহত আসাদুলের নামে ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে চারটি মাদক, একটি অন্যান্য ধারার এবং একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। তবে আকতারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর বড় এলাকা হওয়ায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় বাইরে থেকে আসা অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা অপরাধ করে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। এজন্য ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে চেকপোস্ট জোরদার ও অভিযান আরো বাড়ানো হবে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আকতারের একটি রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে, যা যাচাই করা হচ্ছে।

গত ১৬ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় সাদেক খানের ইটখোলাসংলগ্ন সড়কে আসাদুল হককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিং এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় র‍্যাব-২ পৃথক অভিযানে আসাদুল ইসলাম ও মো. শাওন নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন