গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, জব্দ ২৪৪ লিটার মদ-বিয়ার

গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, জব্দ ২৪৪ লিটার মদ-বিয়ার

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় মো. আতাউর রহমান শামীম (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. ওমর জামিল (৪৫) নামে অপর একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে পলাতক আসামি হিসেবে মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গুলশান-২-এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো বার লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদেশি মদ মজুত এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হচ্ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডিএনসির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নাম সেভেনটি এইট রেস্টহাউজ সোসাইটি। ‘জার্মান ক্লাব’ নামে সেখানে কোনো প্রকৃত বা বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযানে রেস্টহাউজ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা বিদেশি মদের পরিমাণ ২২৩ বোতলে মোট ১৭৭ লিটার। এ ছাড়া ২০৯টি বোতল ও ক্যান থেকে মোট ৬৭ লিটার অবৈধ বিয়ার জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ২৪৪ লিটার।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আতাউর রহমান শামীমকে আটক করা হয়। পরে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ মদ মজুত ও সংরক্ষণের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা মদ ও বিয়ারের বৈধতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

প্রতিষ্ঠানটিতে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এসব পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অবৈধভাবে বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হতো। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ডিএনসির প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রো উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতাউর রহমান শামীম, পলাতক মো. ওমর জামিল এবং অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণি ২৪(গ) ও ৪১ ধারায় গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত ও রাসায়নিক পরীক্ষার নমুনা ডিএনসির হেফাজতে রয়েছে।

পলাতক আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং কথিত ‘জার্মান ক্লাব’ পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত কার্যক্রমের প্রকৃত স্বরূপ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

মেহেদী হাসান বলেন, অবৈধ মাদকদ্রব্যের মজুত, বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধে অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদকের অপব্যবহার রোধ, অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে ডিএনসির অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন