রাজধানীতে শত শত যান্ত্রিক যানবাহনের মাঝে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এ যেন আনন্দের অন্যরকম ধারা । আজ শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সামনে দেখা গেছে এ চিত্র। এখানে পরিবারসহ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন তারা। এ ছাড়া অনেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে ঘোরাঘুরি করছেন।
মুরাদ নামের এক ব্যক্তি এসেছেন মিরপুরের কালশি থেকে। তিনি বলেন, আজ ঈদের দিন বিকেলে ঘোরাঘুরির জন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে সংসদ ভবন এসেছি। ছোট মেয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ওঠার বায়না ধরেছে। তাই তাদের আনন্দের জন্য পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। অন্য সময় এসব ঘোড়ার গাড়ি (টমটম) গুলস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত যাত্রী বহন করে, কিন্তু আজ তারা রিজার্ভে যাত্রী নিচ্ছে।
টুটুন নামের আরেকজন বলেন, ঈদের মধ্য অন্য জায়গায় ফাঁকা হলেও এই এলাকায় অনেক জ্যাম। অনেক মানুষ ঈদের আনন্দ করার জন্য এখানে এসেছে। এখানে এসে দেখি টমটম। এটা ঢাকার ঐতিহ্য। ঢাকার রাস্তায় ব্রিটিশ আমল থেকে টমটমের প্রচলন। কিন্তু এখন যান্ত্রিক যুগে টমটমের ব্যবহার অনেকাংশে কমতে শুরু করেছে। তাই লোভ সামলাতে না পেরে পরিবারের সবাই ঘুরলাম।
টমটমের স্বত্তাধিকারী মো. কুদ্দুস দেওয়ান বলেন, সারা বছরই সদরঘাট থেকে গুলিস্তানে ভাড়াতে চালাই। কিন্তু ঈদের সাত দিন বিভিন্ন বিনোদন স্পটে আমরা আসি। সংসদ ভবন এলাকায় এবার ব্যবসা করতে এসেছি। আমাদের একেকটি টমটমের দুই পাশের বেঞ্চে তিনজন করে, পাটাতনে তিনজন ও চালকসহ দশজন বসতে পারে।
কুদ্দুস দেওয়ান বলেন, এখন অনেকে বর্ণাঢ্য কোনো র্যালি, বিয়ের হলুদের অনুষ্ঠানে ঘোড়াচালিত টমটম নেয়। এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে সদরঘাটে জনপ্রতি ২০ টাকা করে রাখা হয়। আর কেউ যদি রিজার্ভ করে সেক্ষেত্রে দামাদামি করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এখানে অনেক ঘোড়ার গাড়ি এসেছে এবার। মানুষও অনেক হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

